গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

দাম্পত্য সম্পর্কে মাদকের প্রভাব

শুভাশীষ কুমার চ্যাটার্জী

শুভাশীষ কুমার চ্যাটার্জী

প্রকাশিত: ১৪:০২ পিএম, ২৭ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৩৭ এএম ২০২৬
দাম্পত্য সম্পর্কে মাদকের প্রভাব
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বিবাহ একটি শরীর বৃত্তিয়-মনো- সামাজিক বন্ধন যা পারস্পরিক বিশ্বাস,  সম্মান, স্বীকৃতি,  সহভাগিতা, সহযোগিতা,  প্রতিশ্রুতি,  সুনির্দিষ্ট লক্ষপূরণ,  বোঝাপড়া,  স্বচ্ছতা,  পারস্পরিক পরিচর্যা,ও সমানুভূতির ভিত্তিতে টিকে থাকে। একটি দাম্পত্য সম্পর্ক কে যদি একটি ফুল বাগান মনে করি তবে স্বামী  ও স্ত্রী সেখানকার দুজন ফুল টাইম মালির ভুমিকা পালন করবেন। একটি সুস্থ পারিবারিক ও দাম্পত্য সম্পর্ক নির্বাহ করা বা চালিয়ে যাওয়া তখনই সম্ভব যখন দুজনেই শারীরিক ও মানসিক ভাবে সুস্থ।

একজন যখন দিনের পর দিন মানসিক ও শারীরিক ভাবে অসুস্থ থাকেন তখন একার পক্ষে সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া খুব কঠিন কাজ। কেউ কেউ স্যাকরিফাইস বা সব কিছু ছেড়ে দিয়ে নিজেই সব কিছু চালাতে থাকেন, কিন্তু মনে রাখা দরকার, সেক্রিফাইজ করলে অনেক সময় নিজের মধ্যে  অপরাধ বোধ, অনুতাপ,  ও আফসোস এর অনুভূতি সৃষ্টি হতে পারে যা দুশ্চিন্তা ও বিষন্নতার দিকে ধাবিত করতে পারে, কখনো কখনো কারো মধ্যে হাইপারটেনশনে,  এজমা ও কার্ডিও ভাসকুলার ডিজিজ বা হৃদ রোগ সহ অন্যান্য মানসিক রোগ যেমন সাইকোসোমাটিক রিএকশন তৈরি হতে পারে, মনে রাখা দরকার যে স্যাক্রিফাইস আর কম্প্রোমাইজ এক নয়।

আপনার দাম্পত্য সংগীর মাদক সেবন আপনার আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মান কে বিনস্ট করে দিতে পারে, আমাদের দেশে পারিবারিক সহিংসতা,  আগ্রাসী আচরণ,  অবিশ্বাস এর জন্য স্বামী দের মাদক গ্রহণ বহুলাংশে দায়ী।  একটি গবেষণায় কামালউদ্দীন আহমেদ চৌধুরী ও অন্যান্যরা ( ২০০৯) দেখেছেন যে দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতি,  পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও পারিবারিক অস্থিতিশীলতার সাথে মাদক গ্রহনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। লিওনার্দো,  স্মিথ ও অন্যান্যরা ( ২০১৪) গবেষনায় দেখেছেন যে মাদক সেবনের ফলে স্বামী স্ত্রী বা দাম্পত্য সংগী দের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও দায়িত্ববোধ কমিয়ে দেয় এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণ এর অসুবিধা সৃষ্টি করে যা ডিভোর্স কে ত্বরান্বিত করে। তাই সুখের ঘরে মাদকের প্রবেশ মানেই হল, সম্পর্কের অসুস্থতা, তাই কাপল কাউন্সেলিং বা কাপল থেরাপি,  ফ্যামিলি থেরাপি এর সাহায্য নিতে পারেন, আপনার পরিবারে একজন মাদকাসক্ত থাকা মানেই পুরো পরিবারের অসুস্থতা।

শুভাশীষ কুমার চ্যাটার্জী
সাইকোলজিস্ট 
উপ-পরিচালক ( সাইকোলজিক্যাল সার্ভিসেস) শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শ দান কেন্দ্র 
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

এসি/আপ্র/২৭/০৭/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

অনলাইন রেল টিকিটে স্বচ্ছতা কেন জরুরি
২৬ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন রেল টিকিটে স্বচ্ছতা কেন জরুরি

শোয়েব সাম্য সিদ্দিকপূজার দীর্ঘ ছুটি শেষ হয়েছে। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলেছে। আর গ্রামে যাওয়া লা...

ডিজিটাল নিরাপত্তায় রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের করণীয়
২৫ অক্টোবর ২০২৬

ডিজিটাল নিরাপত্তায় রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের করণীয়

সাইবার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

খাদ্যে ভেজাল রোধ করতে হবে
২৫ অক্টোবর ২০২৬

খাদ্যে ভেজাল রোধ করতে হবে

মো. জাহিদ হাসানবেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য একটি উপাদান হলো খাদ্য। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য স্বাস্থ্...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে