রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিকে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িতদের বিচার দাবি করেছে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন।
ঘটনার দিন সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। মঙ্গলবার সকালে কমিটির সদস্যরা সংঘর্ষের স্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও রাকসু ভবন পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, ঘটনার পর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষ বন্ধ রাখা হয়েছিল। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্তের সময় সব ধরনের আলামত ও সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল, ছাত্র ফেডারেশন এবং বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর জোট গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিযুক্ত শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ও এজিএস সালমান সাব্বিরও প্রক্টর দপ্তরে উপস্থিত হন।
পরে রোববার রাতে প্রক্টরের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আনাসকে প্রক্টর দপ্তরে ডাকা হয়। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আনাসকে চড়-থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে তাঁকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী আখ্যা দিয়ে গ্রেফতারের দাবিও জানানো হয়। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় প্রক্টর তাঁকে ছেড়ে দেন বলে জানা গেছে।
তবে ছাড়া পাওয়ার পর আনাস কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে রাকসু কার্যালয়ে হামলা করেন বলে অভিযোগ করেন রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার।
এরপর রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ধাওয়া করলে আনাস ও তাঁর সহযোগীরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে আশ্রয় নেন। অভিযোগ রয়েছে, পরে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বির, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস শাকিব, বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর, সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি ফাহিম রেজা এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে সেখানে তাঁদের ওপর হামলা করা হয়।
এ সময় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করলে তাঁদেরও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার পরিচালক ও প্রশাসনের সদস্যরা আনাস ও তাঁর দুই সহযোগীকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময়ও তাঁদের ওপর আবার হামলা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা কমাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে সোমবার রাতেই পুলিশ জানায়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইতিহাস বিভাগের ২০১৭–১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস এবং সংস্কৃত বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’–সংক্রান্ত একটি পুরোনো মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
তবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের দাবি, অভিযোগের সব পক্ষের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের হামলা, ভয়ভীতি বা শক্তি প্রদর্শনের সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য নয়।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৮/৭/২০২৬