চলতি বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, নির্বাচন শুরুর পর ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ধাপে ধাপে ভোট সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এরই মধ্যে জানিয়েছেন চলতি বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে। নির্বাচন কমিশন অক্টোবর মাসের কথা বললেও সরকার এ বছরেই ভোট শুরুর বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ আরো এক থেকে দুই মাস সময় বাড়তে পারে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চলতি বছরেই শুরু হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রযুক্তিগতভাবে দলীয় নির্বাচন নয়; এখানে ব্যক্তি প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে। ফলে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে।
নির্বাচন কমিশনের সচিবের ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনাররা সাংবিধানিক পদধারী। তবে কমিশনের সচিবসহ অনেক কর্মকর্তা জনপ্রশাসন থেকে প্রেষণে দায়িত্ব পালন করেন। তাই সচিবের বদলি বা অন্যত্র দায়িত্ব পাওয়া প্রশাসনিক প্রক্রিয়ারই অংশ।
পুরোনো হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্ব: ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, অতীতে আলোচিত এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা হত্যা মামলাগুলোর তদন্তেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি উদাহরণ হিসেবে তনু হত্যা মামলার কথা উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিন অগ্রগতি না থাকলেও মামলাটির তদন্ত নতুন করে শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, অতীতের হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো সাংবাদিক যদি পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে হত্যার শিকার হন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, তদন্ত পরিচালনা সরকারের দায়িত্ব হলেও বিচার ও রায় দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। অতীতে তদন্তে বারবার সময় নেওয়ার যে প্রবণতা ছিল, বর্তমান সরকার তা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। তদন্তে প্রয়োজনীয় সময় লাগতে পারে, তবে অযথা বারবার সময় নেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধের চেষ্টা করা হবে।
শহীদ ও আহত সাংবাদিকদের বিষয়ে উদ্যোগ: জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত সাংবাদিকদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তালিকাভুক্ত শহীদদের জন্য সরকারের নির্ধারিত সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করার সুযোগও রয়েছে।
তিনি জানান, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান আরো জানান, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকার বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব প্রামাণ্যচিত্রে শহীদ ও আহত সাংবাদিকদের ভূমিকা এবং তাদের পরিবারের ত্যাগ আলাদাভাবে তুলে ধরা হবে।
একই সঙ্গে সংস্কৃতি ও বিনোদন অঙ্গনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকাও পৃথকভাবে নথিবদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
সানা/আপ্র/২৮/৭/২০২৬