চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে এক দশক আগে সাত বছরের শিশু মাহফুজকে সাগর দেখানোর কথা বলে নিয়ে গিয়ে হত্যার মামলায় তার খালু মো. আল আমিনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মরদেহ গুমের অভিযোগে তাঁকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও পৃথক অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিশাদুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি মো. আল আমিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আল আমিনের বয়স ৪৪ বছর। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কারপাশা গ্রামে। তিনি চট্টগ্রামের হালিশহরের এ ব্লক বাসস্ট্যান্ড এলাকার আজিজ মিয়ার কলোনিতে ভাড়া থাকতেন এবং রিকশা চালাতেন।
আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি এইচ এস আবুল হাসান জানান, মাহফুজ হত্যা মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আল আমিনকে মৃত্যুদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া মরদেহ গুমের অভিযোগে তাঁকে সাত বছরের কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো দুই মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানার পূর্ব সুন্দরীপাড়া এলাকায় সাত বছরের শিশু মাহফুজকে হত্যা করা হয়। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় একটি খাল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মাহফুজের বাবা মাহবুব পেশায় রাজমিস্ত্রি এবং মা সীমা আক্তার পোশাকশ্রমিক। আসামি আল আমিন ছিলেন সীমা আক্তারের ছোট বোনের স্বামী।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আল আমিন মাদক সেবন করে স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে পারিবারিক সালিশ হওয়ায় মাহবুব ও সীমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি। এছাড়া মাহবুবের কাছ থেকে নেওয়া সাড়ে তিন হাজার টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২০ দিন আগে আল আমিনের সঙ্গে তাঁর হাতাহাতিও হয়েছিল।
ঘটনার দিন সকালে মাহবুব ও সীমা কাজে চলে যান। মাহফুজ স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়তে যায়। কিন্তু বিকেল পর্যন্ত সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে স্থানীয়রা হালিশহর এ ব্লক বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসায় আল আমিনকে দেখতে পান। মাহফুজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসা থেকে সাগর দেখাতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মাহফুজকে নিজের রিকশায় তুলে নেন তিনি।
পরে নগরের গলাচিপা পাড়ার টোল রোডসংলগ্ন সাগরপাড়ে নিয়ে গিয়ে গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে মাহফুজকে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ পাশের একটি খালে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখেন। ওই দিন সন্ধ্যায় পুলিশ খাল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় মাহফুজের বাবা মাহবুব হালিশহর থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল আল আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে প্রায় ১০ বছর পর মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন আদালত।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৮/৭/২০২৬