মলে দুর্গন্ধ থাকবেই। এটি একটি স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়া এবং অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার উপজাত। কখনও কখনও আপনি খেয়াল করতে পারেন যে, আপনার মলের গন্ধ স্বাভাবিকের চেয়ে তীব্র অথবা এর গন্ধ হঠাৎ বদলে গেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর কারণ খুবই সাধারণ একটি বিষয়- খাদ্যাভ্যাস। খাদ্যে থাকা প্রোটিন ও সালফার অন্ত্রে অণুজীব দ্বারা পচনের ফলে আরও তীব্র গন্ধযুক্ত বিপাকীয় পদার্থ তৈরি করতে পারে। তবে যখন এই পরিবর্তনগুলো ক্রমাগত ঘটতে থাকে, তখন তা হজম বা শোষণজনিত সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। গন্ধ দিয়ে রোগ নির্ণয় করা যায় না। কিন্তু যদি এটি হঠাৎ বা তীব্র হয়; তাহলে মলের ধরন, মলের চেহারা ও অন্যান্য উপসর্গ বিবেচনা করলে তা সহায়ক হতে পারে।
মলে দুর্গন্ধ হয় কেন: মলের গন্ধ প্রধানত অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা উৎপাদিত যৌগ থেকে আসে- যখন তা হজম না হওয়া খাবার, বিশেষ করে প্রোটিন ও নির্দিষ্ট কিছু কার্বোহাইড্রেট ভেঙে ফেলে। প্রত্যেকের মলেই কিছুটা গন্ধ থাকে। কারণ এই ব্যাকটেরিয়াজনিত গাঁজন হজম প্রক্রিয়ার একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অংশ। এর তীব্রতা ও প্রকৃতি পরিবর্তিত হয় এবং তা আপনার খাদ্যাভ্যাস, অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া ও হজমতন্ত্রের খাদ্য শোষণের দক্ষতার ওপর নির্ভর করে।
জৈব বর্জ্য ভাঙনের ওপর রাসায়নিক গবেষণা দেখায় যে, অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া উদ্বায়ী যৌগ নিঃসরণের মাধ্যমে তীব্র গন্ধ তৈরি করে। ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের একটি জার্নাল অনুসারে যখন অণুজীব হজম না হওয়া প্রোটিন ও সালফার সমৃদ্ধ খাবার গাঁজন করে, তখন তারা হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো গ্যাস নির্গত করে। এই জৈবিক প্রক্রিয়াটি প্রকৃতিতে বর্জ্যরে পচনের মতোই। হজম না হওয়া পুষ্টির মাত্রা বেশি হলে সরাসরি গন্ধ আরও তীব্র হয়।
গন্ধের ধরন কি আসলেই ভিন্ন কোনো ইঙ্গিত দেয়: হ্যা এবং এটি শুধু কেযাল না করে বরং মনোযোগ দেওয়ার মতো। হাইড্রোজেন সালফাইড সাধারণত অন্ত্রের কিছু ব্যাকটেরিয়া দ্বারা উৎপাদিত হয়, এবং এর সঙ্গে সাধারণত দুর্গন্ধ থাকে যাকে পচা ডিমের মতো বলা হয়। এছাড়াও খাদ্যে সালফারের পরিমাণ বেশি থাকা (যার মধ্যে ডিম, লাল মাংস এবং ব্রোকলি ও বাঁধাকপির মতো ক্রুসিফেরাস সবজি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে) অথবা অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যের পরিবর্তনও এর কারণ হতে পারে।
যদি মল পুরোনো ও হালকা ধূসর রঙের হয়, পানিতে ভাসে, বের হতে কষ্ট হয় এবং দুর্গন্ধযুক্ত হয়, তবে এটি ফ্যাট ম্যালঅ্যাবসর্পশনের (শরীর খাদ্য থেকে চর্বি সঠিকভাবে শোষণ করতে না পারার) একটি লক্ষণ হতে পারে। এটি সাধারণ তীব্র গন্ধের চেয়ে বেশি সুনির্দিষ্ট এবং চিকিৎসাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি অগ্ন্যাশয়, পিত্তথলি বা ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে চর্বি শোষণের ক্ষমতার সমস্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
ল্যাকটোজ ইনটলারন্সের মতো অবস্থা কার্বোহাইড্রেট শোষণে অক্ষমতা এবং অসহিষ্ণুতার সঙ্গে সম্পর্কিত, যার ঝাঁঝালো গন্ধ থাকে। যদি গন্ধ হঠাৎ পরিবর্তিত হয়, তবে এটি চিকিৎসাগতভাবে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি নির্দেশ করে যে মল গঠনের পদ্ধতিতে বা অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার গঠনে কিছু পরিবর্তন হয়েছে।
মলের তীব্র গন্ধের সাধারণ ও দৈনন্দিন কারণ: উচ্চ-প্রোটিন বা উচ্চ-সালফারযুক্ত খাবার, কারণ কার্বোহাইড্রেট ভাঙার চেয়ে প্রোটিন ভাঙার ফলে বেশি গন্ধ সৃষ্টিকারী যৌগ তৈরি হয়। পানিশূন্যতা- যা মলকে ঘনীভূত করে এবং এর গন্ধকে তীব্র করতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার- যা অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করে এবং মাইক্রোবায়োম পুনরায় সামঞ্জস্য করার সময় সাময়িকভাবে মলের গন্ধ পরিবর্তন করতে পারে। ফুড ইনটলারেন্স, বিশেষ করে ল্যাকটোজ বা নির্দিষ্ট কিছু ঋঙউগঅচং- যা অসম্পূর্ণ হজম এবং কোলনে অতিরিক্ত গাঁজন ঘটায়। মল কোলনে বেশিক্ষণ থাকলে ব্যাকটেরিয়াগুলো এর ওপর কাজ করার জন্য বেশি সময় পায়- যা বেশিরভাগ সময় গন্ধকে তীব্র করে তোলে।
সূত্র: অনলাইন
কেএমএএ/আপ্র/১০.০৯.২০২৬