বাজারে গরুর জাত ও ধরন অনুযায়ী মাংসের দাম আলাদাভাবে নির্ধারণের দাবিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আজ রোববার (৮ মার্চ ২০২৬) জনস্বার্থে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান এই নোটিশ পাঠান। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন বরাবর নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বাজারে ব্রয়লার, সোনালি ও দেশি মুরগির দাম আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হলেও গরুর মাংসের ক্ষেত্রে এমন কোনো বিভাজন নেই। বর্তমানে দেশি ষাঁড়,সংকর জাতের গরু বা ফার্মের গরু, বয়স্ক গাভী এবং বকনা গরুর মাংস একই দামে বিক্রি হচ্ছে, যা বেআইনি ও ইচ্ছামাফিক মূল্য নির্ধারণের শামিল।
আইনি নোটিশে দাবি করা হয়েছে, এই অভিন্ন মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা সাধারণ ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা এবং একটি অন্যায্য বাণিজ্যিক প্রথা। এর ফলে ভোক্তারা তুলনামূলক নিম্নমানের মাংস বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন এবং তাদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এতে আরো বলা হয়, এই পরিস্থিতির কারণে দেশের প্রান্তিক ও গ্রামীণ খামারিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। যারা শ্রম ও সময় ব্যয় করে প্রাকৃতিক উপায়ে উন্নত মানের দেশি গরু পালন করেন, তারা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। বিপরীতে সংকর জাতের গরুর খামারি ও বয়স্ক গাভী বিক্রিকারী একটি সিন্ডিকেট অযৌক্তিক মুনাফা করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এবং প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর লঙ্ঘনের শামিল।
আইনি নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে গরুর জাত ও ধরন— যেমন : দেশি, ষাঁড়, শংকর, বয়স্ক গাভী ও বকনা— অনুযায়ী খুচরা পর্যায়ে মাংসের আলাদা দাম নির্ধারণে প্রশাসনিক ও আইনি নির্দেশনা জারি করার দাবি জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট (পিআইএল) দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসি/০৮/০৩/২০২৬