ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের মামলায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (১২ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. হাসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, আরামিট গ্রুপের একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরে ওই অর্থ ব্যাংকের কর্মচারীদের মাধ্যমে উত্তোলন করে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী এবং ইউসিবির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুরসহ মোট ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় ৯২ জন সাক্ষী রয়েছেন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন জানান, এম এ সবুর আদালতে সময়ের আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন নামঞ্জুর করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
তিনি আরো বলেন, অভিযোগপত্র দাখিলের তথ্য গোপন করে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেওয়া হয়েছিল। অথচ অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলায় অভিযোগ গঠন হয়ে বিচার শুরু হয়েছে।
এর আগে গত ১৭ মে হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের বেঞ্চ এম এ সবুরকে আট সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ মহানগর বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশের পর তিনি গত ৯ জুলাই আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করার সময় মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল হয়নি বলে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে এর আগেই গত ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে আদালত অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।
সানা/আপ্র/১৩/৮/২০২৬