দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭২৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ জনে। এর মধ্যে শুধু আগস্টেই মারা গেছেন নয়জন।
বুধবার (১২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৭২৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন হাসপাতালে ১০১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাসপাতালগুলোতে ১১২ জন এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ১০৭ জন ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন বরিশালে, ১০১ জন। এ ছাড়া খুলনায় ৯৮, চট্টগ্রামে ৮৩, রাজশাহীতে ৬৩, ময়মনসিংহে ৪৫, রংপুরে ১২ এবং সিলেটে একজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭১২ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ২১ হাজার ৫৫০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৯ হাজার ৮৯৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকেই ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার প্রজনন ও বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি আরো বাড়ছে। নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষায় আরো জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর হিসাব সংরক্ষণ করছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা যায়। ওই বছর ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মৃত্যু হয় ১ হাজার ৭০৫ জনের-যা এখন পর্যন্ত এক বছরে সর্বোচ্চ।
এর আগের বছরগুলোর তুলনায় ২০২৫ সালেও ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল উল্লেখযোগ্য। ওই বছর চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয় এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন প্রায় ১ লাখ ২ হাজার রোগী।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় কম হলেও আগস্টে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এডিস মশার বিস্তার রোধে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সানা/আপ্র/১৩/৮/২০২৬