গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

মেনু

দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে জনরোষ, বিদ্যুৎ স্থাপনায় নিরাপত্তা চায় পল্লী বিদ্যুৎ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৩৯ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০১:৩৯ এএম ২০২৬
দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে জনরোষ, বিদ্যুৎ স্থাপনায় নিরাপত্তা চায় পল্লী বিদ্যুৎ
ছবি

দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রিড, উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন -ছবি সংগৃহীত

জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের মধ্যে জনরোষ বাড়ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রিড, উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে চিঠি দিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিটি বুধবার (১২ আগস্ট) পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠানো হয়। পল্লী বিদ্যুতের একজন কর্মকর্তা চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, চিঠিটি তাঁরা পেয়েছেন। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সবসময় সচেষ্ট এবং বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি সংকট ও তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। ফলে সরবরাহ কমেছে এবং বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রামাঞ্চলে অতিরিক্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় জনরোষ বাড়ছে। এরই মধ্যে কোথাও কোথাও বিদ্যুতের উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ গ্রাহক, অর্থাৎ প্রায় চার কোটি গ্রাহককে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। জাতীয়ভাবে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশও তাদের আওতাধীন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। তবে এসব সমিতি নিজেরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না; জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ পাওয়া বিদ্যুৎই গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করে।

চিঠিতে বলা হয়, গত কয়েক দিনে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সম্মিলিত গড় চাহিদা ছিল প্রায় আট থেকে নয় হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে গড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কোনো কোনো এলাকায় দিনে আট, দশ এমনকি ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষুব্ধ মানুষ কোথাও কোথাও পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করছে। এতে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিটি সমিতির আওতাধীন গ্রিড, উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে নিরাপত্তা বাড়াতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিঠির অনুলিপি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ সচিবের দপ্তর, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

এদিকে চলমান বিদ্যুৎ সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে গ্যাসের ঘাটতিকে উল্লেখ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছে না।

সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে লোডশেডিং তিন হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি পড়ছে গ্রামাঞ্চলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে নতুন একটি কৌশল নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে এবং বুধবার সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে নতুন এলএনজি খালাস করা যাচ্ছে না। দুর্ঘটনার পর এক্সেলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালও এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সরকার আলোচনা করছে। দেশটির কাছ থেকে অন্তত একটি এলএনজি কার্গো পাওয়ার আশা করছে সরকার। পাশাপাশি বিশেষ ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে, যদিও প্রয়োজনীয় ট্যাংক সহজলভ্য না হওয়ায় এটিকে মধ্যমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকারের হাতে থাকা সব বিকল্প নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আগের সরকারের জ্বালানি নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়ার কারণেই বর্তমান সংকটের ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

তবে বিদ্যুৎ স্থাপনার নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে দেওয়া চিঠিটি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়নি বলেও স্পষ্ট করেছেন প্রতিমন্ত্রী।
সানা/আপ্র/১৩/৮/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

চাকরি হারালেন রাব্বানীর ভাই ও বিপ্লব কুমারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা
১২ আগস্ট ২০২৬

চাকরি হারালেন রাব্বানীর ভাই ও বিপ্লব কুমারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা

ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহানী এবং আলোচিত...

একই পুকুরে ফের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু, প্রশ্ন নিরাপত্তা নিয়ে
১২ আগস্ট ২০২৬

একই পুকুরে ফের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু, প্রশ্ন নিরাপত্তা নিয়ে

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুরে ডুবে আবারো দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মাত্র...

চাকরি হারালেন রাব্বানীর ভাই ও বিপ্লব কুমারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা
১২ আগস্ট ২০২৬

চাকরি হারালেন রাব্বানীর ভাই ও বিপ্লব কুমারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা

ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহানী এবং আলোচিত...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই