শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান অবশ্যই দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকার কারণে ইতিহাস পরিবর্তন করা যায় না।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নগরের জেলা স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্বাধীনতা পদক ও সাহিত্য সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে এ বক্তব্য দেন তিনি।
মেয়র বলেন, “আমি আজ সরকারে আছি দেখে ইতিহাস পাল্টে ফেলব, এটা হতে পারে না। ইতিহাস ইতিহাসের গতিতেই চলবে এবং তা ইতিহাসবিদরাই লিখবেন।”
পদক প্রদান প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দিতে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কারও রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অবদানই ছিল মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।
শাহাদাত হোসেন বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কেউ সাহিত্য রচনা করলেই তাকে বাদ দেওয়া যায় না; বরং তাঁর সাহিত্যিক অবদান বিবেচনায় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানও অস্বীকার করা যাবে না।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টরে যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে প্রত্যেককে তাঁদের যথাযথ স্থানে সম্মান জানাতে হবে।
মেয়র আরো বলেন, “যার যার জায়গায় সম্মান দিতে হবে—শেখ মুজিবুর রহমান, সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী—সবাইকে তাঁদের অবদানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, প্রপাগান্ডার মাধ্যমে ইতিহাস আড়াল করার চেষ্টা করা উচিত নয়। বরং সত্য ইতিহাস তুলে ধরাই দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এবার স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননার জন্য আটজন ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়। এর মধ্যে স্বাধীনতা আন্দোলনে অবদানের জন্য প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমানকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, চিকিৎসা, সাংবাদিকতা, ক্রীড়া, সমাজসেবা, স্বাস্থ্যসেবা ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
অন্যদিকে সাহিত্য ক্ষেত্রে গীতিকবিতা, শিশু সাহিত্য, প্রবন্ধ-গবেষণা, কবিতা ও কথাসাহিত্যে অবদানের জন্য পাঁচজনকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
সানা/আপ্র/১৯/৪/২০২৬