খুলনায় রাশেদ কাজী (২০) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে বটিয়াঘাটা উপজেলার স্কুলভিটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জেল-বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বটিয়াঘাটা উপজেলার লবণচরা থানার কৃষ্ণনগর এলাকার বাসিন্দা কাজী আনিসুর রহমানের ছেলে রাশেদ কাজীকে মঙ্গলবার সকালে তার পরিচিত এক যুবক বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, স্কুলভিটার সামনে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ভাই কাজী রাইসুল ইসলাম জানান, সকালে রাশেদ ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে তার স্ত্রী জানান, সোয়া ১১টার দিকে এক পরিচিত যুবক তাকে বাড়ি থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। এরপরই হামলার ঘটনা ঘটে।
একটি সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে রাশেদ একটি মাদক মামলায় কারাগারে ছিলেন। সেখানে অপর এক বন্দি ইমরান নামের ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা হয়। পরবর্তীতে ইমরানের বাড়িতে রাশেদের যাতায়াত বাড়ে। ছয়-সাত মাস আগে ইমরান আবারও কারাগারে গেলে রাশেদ তার স্ত্রী ফাহিমাকে বিয়ে করেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই ঘটনার জের ধরেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে একের পর এক হত্যাকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১৯ মার্চ নিহত রাশেদের বাড়িতে ঢুকে দুর্বৃত্তরা তার বাবা, মা, বড় ভাই ও স্ত্রীকে গুলি করে আহত করে। এর আগে মাত্র কয়েক দিন আগে নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায়ও জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নগরজুড়ে ধারাবাহিক সহিংস ঘটনার পর খুলনার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সানা/আপ্র/২/৬/২০২৬