বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার দিঘিতে থাকা একমাত্র নারী কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মাজার কর্তৃপক্ষ। তারা অবিলম্বে কুমিরটি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে প্রশাসনের কাছে। তবে জননিরাপত্তার স্বার্থে কুমিরটি অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন।
গত সোমবার (১ জুন) রাতে দিঘির মহিলা ঘাটে আট বছর বয়সী ফাতেমা গোসল বা হাত-মুখ ধোয়ার জন্য পানিতে নামলে কুমিরটির আক্রমণের শিকার হয়। কুমিরটি তাকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। পরদিন ভোরে শিশুটির মরদেহ পানিতে ভেসে উঠলে তা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে স্থানীয় প্রশাসন জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জরুরি সভা করে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বুধবার দুপুরে দিঘির পূর্ব পাড়ের বীনা বেগমের ঘাট এলাকা থেকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে বন বিভাগের একটি দল কুমিরটিকে আটক করে। পরে রশি দিয়ে বেঁধে গাড়িতে তুলে খুলনার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিচিত কুমিরটি হঠাৎ সরিয়ে নেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মাজার কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, কুমিরকে ঘিরে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। নিরাপত্তা জোরদারে ইতোমধ্যে আটজন প্রহরীও মোতায়েন করা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া সমীচীন হয়নি বলে মনে করছে তারা।
মাজারে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যেও এ নিয়ে ভিন্নমত দেখা গেছে। দবিরুল ইসলামসহ কয়েকজন বলেন, কুমিরটি মাজারের ঐতিহ্যের অংশ। এটি না থাকলে ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হারিয়ে যাবে। যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কুমিরটিকে দিঘিতেই রাখা উচিত।
অন্যদিকে কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, দিঘিতে কুমির না থাকায় তারা ভয় ছাড়াই গোসল করতে পেরেছেন। এতে স্বস্তি বোধ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তারা।
খানজাহান আলী মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, “মাজারের দিঘিতে সম্প্রতি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এজন্য আমরা ব্যথিত। এখানে আসা হাজার হাজার দর্শনার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। এর মধ্যে প্রশাসন জরুরি সভা করে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
“ঐতিহাসিক খানজাহান আলী মাজারের ইতিহাস সাড়ে পাঁচশ বছরের। মাজারে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য কুমির। আমাদের ভুল-ত্রুটি হতে পারে। তবে প্রশাসন যেভাবে কুমিরটি ধরে নিয়ে গেছে, তা আমরা চাইনি। প্রশাসন কাজটি ভালো করেনি।” তিনি অবিলম্বে কুমিরটি মাজার দিঘিতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, খুলনার কয়রার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে কুমিরটিকে নিয়ে গেছে বন বিভাগ। ভবিষ্যতে প্রাণীটির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা পরে জানানো হবে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৩/৬/২০২৬