সুজাউদ্দৌলা সুজন, জামালপুর: সম্প্রতি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামালপুর পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ড দেউরপাড় চন্দ্রার শেখ ফরিদের বিরুদ্ধে বিদেশে চাকরি ও ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, বিদেশে নিয়ে হয়রানি এবং প্রাণনাশের আশঙ্কার অভিযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সৌদি আরব প্রবাসী মোহাম্মদ শেখ ফরিদ।
পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, তিনি দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত থেকে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন এবং কফিলের বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন। নিজ গ্রামে বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে জমি ক্রয়ের পর থেকেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
প্রতিবাদে শেখ ফরিদ উল্লেখ করেন, তার গ্রামেরই এক ব্যক্তি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি মানবিক কারণে সহযোগিতা করেন। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি তার ও কফিলের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হন।
তিনি দাবি করেন, পরবর্তীতে ব্যবসায়িক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তাকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যে একটি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে আরো কয়েকজনকে সৌদি আরবে নিয়ে এসে তার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
শেখ ফরিদ আরো বলেন, তার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের অনেককে অর্থের বিনিময়ে উপস্থিত করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবাদলিপিতে তিনি অভিযোগ করেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি এবং মানসিকভাবে হয়রানি করছে। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগ তুলে অর্থ আদায়ের অপচেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরো জানান, মো. জিহাদ খান, ফেরদৌস হাসান ফরিদ খান, সালাউদ্দিন খানসহ কয়েকজন ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িত রয়েছেন। পাশাপাশি মো. আকাশ, সুলাইমান, নাঈম মনি, সোহাগ, রাব্বি, আতিকুল, আসাদুল ও মুস্তাক নামের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও তিনি অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনেন।
তার দাবি, তার ক্রয়কৃত জমি দখল, নির্মাণাধীন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। এসব বিষয়ে তার কাছে প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
পরিশেষে শেখ ফরিদ তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ ও অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সানা/আপ্র/২/৬/২০২৬