সুজাউদ্দৌলা সুজন, জামালপুর: জামালপুরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় প্রবেশপত্র না পাওয়ায় ১১ নং শীতলকুর্শা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনজন মেধাবী শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলো সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের রামপুরা এলাকার মনিরুজ্জামান নয়নের ছেলে নসিব হোসেন নীরব (১২), শীতলকুর্শা এলাকার আব্দুল মান্নানের মেয়ে মাইমুনা (১২) এবং খোরশেদ আলমের মেয়ে সাবিহা (১২)। তারা দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়েও পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৭ এপ্রিল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ.কে.এম হাবিবুল্লাহ আকন্দ সাতজন শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র অনলাইনে ডাউনলোড করে নিজের কাছে সংরক্ষণ করেন। পরবর্তীতে ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষায় চারজন শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র পেলেও ওই তিনজনকে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে তিনজন শিক্ষার্থী পরীক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তারা আরো অভিযোগ করেন, বিষয়টি জানার পরও কোনো সমাধান না দিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
এক শিক্ষার্থীর মা জানান, পরীক্ষার দিন সকালেও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় সন্তান পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। এতে তাদের পরিবার চরম হতাশায় পড়েছে এবং তারা ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
আরেক অভিভাবক বলেন, সন্তানকে বৃত্তি পরীক্ষার জন্য দীর্ঘদিন প্রস্তুত করা হলেও বিদ্যালয় থেকে সময়মতো কোনো তথ্য না দেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক এ.কে.এম হাবিবুল্লাহ আকন্দ বলেন, তিনি প্রবেশপত্র ডাউনলোড করেছিলেন তবে শিক্ষার্থীদের সময়মতো জানাতে পারেননি। এটি তার ভুল হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেন।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) জানান, বিষয়টি গুরুতর অবহেলার মধ্যে পড়ে। কোনো শিক্ষার্থীকে এভাবে বৃত্তি পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত করা গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সানা/আপ্র/১৭/৪/২০২৬