গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬

মেনু

রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে: বিচারক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৫১ পিএম, ০৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২২:৪৮ এএম ২০২৬
রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে: বিচারক
ছবি

ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলার রায় পড়া শুরু হয়েছে। শিশুটিকে হত্যার আগে ধর্ষণের বিষয়টি সুরতহাল প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিচারক।

রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই মামলার রায় পড়া শুরু করেন।

রায় পাঠকালে বিচারক বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদনে প্রমাণ হয়েছে রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল। প্রধান আসামি সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। অন্য আসামি স্বপ্না আক্তারও সোহেল রানার মতো একই অপরাধে অপরাধী। এই ধরনের অপরাধ কেবল একটি পরিবারকে নয়, বরং পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে।

এর আগে আজ সকালে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় ঢাকার আদালতে নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের আদালতের মহানগর হাজতখানায় রাখা হয়। এদিকে একমাত্র মেয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের রায় শুনতে সকালে ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে আসেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে উৎসুক মানুষের ব্যাপক ভিড় লক্ষ করা গেছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন। 

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। বারবার ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ এসে তাৎক্ষণিকভাবে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

এই নৃশংস ঘটনার পরদিন ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে মাত্র ৫ দিনের মাথায় (২৪ মে) পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলাটিতে মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ এই রায় দিচ্ছেন আদালত।

এসি/আপ্র/০৭/০৬/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে: আইনমন্ত্রী
২৫ জুলাই ২০২৬

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে: আইনমন্ত্রী

দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন...

প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ে চাকরি ফিরে পেলেন ‘টিপকাণ্ডের’ কনস্টেবল
২৪ জুলাই ২০২৬

প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ে চাকরি ফিরে পেলেন ‘টিপকাণ্ডের’ কনস্টেবল

রাজধানীর ফার্মগেটে ২০২২ সালে ‘টিপকাণ্ড’ হিসেবে আলোচিত ঘটনায় চাকরিচ্যুত পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল তারেক প...

হাইকোর্টের নতুন রেকর্ড একদিনে ৭৮৫৩ ‘ক্রিমিনাল মিস’ মামলা নিষ্পত্তি
২৩ জুলাই ২০২৬

হাইকোর্টের নতুন রেকর্ড একদিনে ৭৮৫৩ ‘ক্রিমিনাল মিস’ মামলা নিষ্পত্তি

একদিনেই ৭ হাজার ৮৫৩টি পুরোনো ‘ক্রিমিনাল মিস’ মামলা নিষ্পত্তি করে নতুন রেকর্ড গড়েছে হাইকোর্টের ১০টি ক...

শিশু ঝুমুর ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামির মৃত্যুদণ্ড
২৩ জুলাই ২০২৬

শিশু ঝুমুর ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামির মৃত্যুদণ্ড

কুমিল্লায় ৯ বছরের শিশু তানজিম সুলতানা ঝুমুরকে ধর্ষণের পর হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় মফিজুল ইসলাম মফু...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

সাহাবুদ্দিন বর্তমান সরকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন

গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও মো. সাহাবুদ্দিন বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রতি সবসময় সমর্থন ও শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে