রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলার রায় পড়া শুরু হয়েছে। শিশুটিকে হত্যার আগে ধর্ষণের বিষয়টি সুরতহাল প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিচারক।
রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই মামলার রায় পড়া শুরু করেন।
রায় পাঠকালে বিচারক বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদনে প্রমাণ হয়েছে রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল। প্রধান আসামি সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। অন্য আসামি স্বপ্না আক্তারও সোহেল রানার মতো একই অপরাধে অপরাধী। এই ধরনের অপরাধ কেবল একটি পরিবারকে নয়, বরং পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে।
এর আগে আজ সকালে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় ঢাকার আদালতে নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের আদালতের মহানগর হাজতখানায় রাখা হয়। এদিকে একমাত্র মেয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের রায় শুনতে সকালে ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে আসেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে উৎসুক মানুষের ব্যাপক ভিড় লক্ষ করা গেছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। বারবার ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ এসে তাৎক্ষণিকভাবে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
এই নৃশংস ঘটনার পরদিন ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে মাত্র ৫ দিনের মাথায় (২৪ মে) পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলাটিতে মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ এই রায় দিচ্ছেন আদালত।
এসি/আপ্র/০৭/০৬/২০২৬