গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

ঈদ যাত্রায় সড়ক-রেল-নৌপথে নিহত ৪৩৮ জন

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:১৯ পিএম, ০৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ০২:৪৯ এএম ২০২৬
ঈদ যাত্রায় সড়ক-রেল-নৌপথে নিহত ৪৩৮ জন
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ঈদুল আজহার ঘরমুখো যাতায়াতে ১৫ দিনে সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৪৪২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহায় সারাদেশে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত ও ১ হাজার ২৯৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌপথে সর্বমোট ৪৪২টি দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩৪০ জন আহত হয়েছেন।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর দুই ঈদে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করেন। ঈদকে কেন্দ্র করে ১০-১২ দিনের তৎপরতা নয়, বরং মানুষের জীবন রক্ষা ও যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। গণপরিবহন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন জরুরি। উন্নত বিশ্বের আদলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু, মহাসড়ক থেকে ছোট যানবাহন পর্যায়ক্রমে অপসারণ, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন উচ্ছেদ করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে ‘স্টার’ মানের সড়ক নিরাপত্তা করিডোর গড়ে তোলারও দাবি জানান তিনি।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের সড়ক-মহাসড়কের বড় অংশে বৃষ্টির কারণে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তের কারণে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে। ভাঙাচোরা সড়ক, বিদ্যমান ত্রুটি এবং চালকদের আইন অমান্যের প্রবণতার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া চালক সংকটের কারণে প্রায় ৮০ শতাংশ যানবাহন একজন চালক দিয়ে বিরামহীনভাবে পরিচালিত হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।

তিনি আরো বলেন, কিছু বাস মালিক অতিরিক্ত মুনাফার আশায় আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে যাওয়া ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন মেরামত ছাড়াই সড়কে নামিয়েছেন। ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাল-বিল বা রাস্তার পাশে পড়ে যাওয়ার ঘটনা এবারের ঈদে বেশি দেখা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২১ মে থেকে ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরা ৪ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনে সারাদেশে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৯৪ জন আহত হয়েছেন। গত বছর ঈদুল আজহায় ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত ও ১ হাজার ১৮২ জন আহত হয়েছিলেন। সে হিসেবে এবার সড়ক দুর্ঘটনা ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৩ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। ঈদে ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত এবং ১৮০ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

এ সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের মধ্যে ৮০ জন চালক, ৮৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৯ জন পথচারী, ৬৪ জন নারী, ৪৫ জন শিশু, ৬৬ জন শিক্ষার্থী, পাঁচজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, তিনজন শিক্ষক, একজন চিকিৎসক, তিনজন সাংবাদিক, একজন প্রকৌশলী এবং চারজন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ১৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ বাস, ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ কার ও মাইক্রোবাস, ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ নছিমন-করিমন এবং ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিল।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ গাড়ির চাপা বা ধাক্কা, ১৭ দশমিক ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়া, ১ দশমিক ৫২ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষ এবং ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ অন্যান্য কারণে সংঘটিত হয়েছে।

এছাড়া মোট দুর্ঘটনার ৫০ দশমিক ৫০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ৭১ শতাংশ আঞ্চলিক সড়ক ও মহানগর এলাকায়, শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে, ১ দশমিক ৫২ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে এবং ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল, রোড সাইন ও রোড মার্কিংয়ের অভাব, সড়কে মিডিয়ান না থাকা, নির্মাণ ত্রুটি, উল্টো পথে যান চলাচল, চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, বিরামহীন ড্রাইভিং এবং বৃষ্টির কারণে সড়কে গর্ত সৃষ্টিকে দায়ী করেছে।

সংগঠনটি সুপারিশ করেছে— ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নির্মাণ, চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, রোড সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা নিরীক্ষা, ফিটনেস ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহন অপসারণ, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ড. এ ওয়াই এম একরামুল হক, সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব অর্পনা রায় দাশ, অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, দপ্তর সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বিটু, মনজুর হোসেন ইসা প্রমুখ।

এসি/আপ্র/০৭/০৬/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং

ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনে গত এক মাস ধরে কয়লা সংকটের কারণে...

খালে ভাসছিল লাশ, ৩৬ ঘণ্টায় হত্যার রহস্য উন্মোচন
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খালে ভাসছিল লাশ, ৩৬ ঘণ্টায় হত্যার রহস্য উন্মোচন

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের ত্রিমোহনীতে জিরানী খালের পানিতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের প...

লালবাগে বন্ধুর বাসার পেছনে মাটিচাপা ব্যবসায়ীর লাশ
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লালবাগে বন্ধুর বাসার পেছনে মাটিচাপা ব্যবসায়ীর লাশ

নিখোঁজের তিন দিন পর ঢাকার লালবাগে বন্ধুর বাসার পেছন থেকে শেখ ওয়াসিম রনি নামে এক ব্যবসায়ীর মাটিচাপা...

ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি-সমঝোতা পর্যালোচনা করছে সরকার
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি-সমঝোতা পর্যালোচনা করছে সরকার

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে হওয়া ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালো...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসকে

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই কর পরিশোধের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৩ অর্থবছর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই রায় সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 16 ঘন্টা আগে