রংপুরে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পর স্থানীয় বাজার ও আশপাশের দোকানপাট ও বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। হামলার শিকার অধিকাংশই হিন্দু সম্প্রদায়ের দোকান ও বসতবাড়ি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাছুয়াপাড়া মোড়ে রাকিব হাসান নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
হত্যাকাণ্ডের পর শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে দাসপাড়া বাজার এলাকায় অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে প্রায় ২০টি দোকান ও অন্তত ১০টি বাড়িঘরের দরজা, জানালা ও শাটার ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হামলাকারীরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের পক্ষ থেকে সাক্ষ্য না দেওয়ার অভিযোগ তুলে দোকানপাট ও বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন, হামলার সময় দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর উপস্থিতি ছিল না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার আগে থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং অস্ত্রধারীদের চলাফেরার বিষয়েও পুলিশকে জানানো হয়েছিল।
রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার জানান, হত্যাকাণ্ড ও ভাঙচুরে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে নিহত রাকিব হাসানের বাবা বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখসহ আরো কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে পরিবার। স্থানীয়রা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
সানা/আপ্র/১১/৪/২০২৬