জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষায় যুক্ত করতে সারা দেশের ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগামী ৭ জুন (রোববার) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।
শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
উপাচার্য বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রায় আড়াই হাজার কলেজে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর অনেক শিক্ষার্থী শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতার অভাবে কর্মসংস্থানে পিছিয়ে পড়ছেন। এ বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, এটুআই এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রম চালু করা হয়েছে। তিনি জানান, নতুন পাঠ্যক্রমে শিক্ষার্থীদের ফ্রিল্যান্সিং, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ডিজিটাল মার্কেটিং, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং ও ডেটা সায়েন্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ৯০০ মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, উচ্চশিক্ষাকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করা, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ উপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা, উদ্যোক্তা গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের মানবসম্পদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংস্কার কার্যক্রমও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু, শিল্প–একাডেমি সংযোগ বৃদ্ধি, নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ‘এক শিক্ষার্থী, এক গাছ’ কর্মসূচি।
উপাচার্য আরো জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি ভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কলেজ পর্যায়ে ভাষা ক্লাব গড়ে তুলে শিক্ষার্থীদের চীনা, জাপানি, কোরীয়, স্প্যানিশ, ইতালীয় ও আরবি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে দুই কোটির বেশি গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিল্প–একাডেমি সংযোগের হার ১০ শতাংশেরও কম। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ৫০ থেকে ৬০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা, বিতর্ক এবং নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৫/৬/২০২৬