কারামুক্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার অভিযোগে সিটি করপোরেশনের এক কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে সিটি করপোরেশন প্রশাসন।
চাকরিচ্যুত কর্মচারীর নাম টরিক আহমেদ। তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে পিয়নের দায়িত্ব পালন করতেন। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
টরিক আহমেদের দাবি, দেওভোগ এলাকায় আইভীর বাড়ির পাশেই তার বাড়ি। বুধবার রাতে এক বছর পর কারামুক্ত হয়ে আইভী নিজ বাসভবন চুনকা কুটিরে ফিরলে এলাকার অন্যদের সঙ্গে তিনিও সেখানে যান। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার উপস্থিতির ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এর পরদিন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান তাকে ডেকে পাঠান। বিষয়টি স্বীকার করার পর তাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ নাকচ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, টরিক আহমেদকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তবে আইভীর সঙ্গে দেখা করার কারণে নয়। তার বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চাকরিচ্যুতির কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, টরিক সিটি করপোরেশনে কর্মরত থাকার পাশাপাশি একটি ব্যাংকের এজেন্ট শাখায়ও কাজ করতেন। তিনি নিয়মিত হাজিরা দিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে কারামুক্তির পর আইভীর বাড়িকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বাড়ির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার রাত ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় নারী কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান ডা. সেলিনা হায়াত আইভী। পরে তিনি নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকায় নিজ বাসভবন চুনকা কুটিরে ফিরে যান। সেখানে পৌঁছে প্রথমে আঙিনায় অবস্থিত খানকা শরীফের মাজার জিয়ারত করেন এবং পরে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তার বাড়ির আশপাশে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও দেখা যায়।
গত ১৭ মে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সর্বশেষ দুটি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন। এর ফলে ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে থাকা ১২টি মামলার সবগুলোতেই জামিন নিশ্চিত হয় এবং তার মুক্তির ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা থাকে না।
ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ২০০৩ সালে প্রথমবার নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ২০১১, ২০১৬ ও ২০২২ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ওই বছরের ১৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে মেয়র পদ থেকে অপসারণ করে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৫/৬/২০২৬