গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই বছর ধরে হার্নিয়ার অসহনীয় যন্ত্রণায় ভুগছিলেন ৭৬ বছর বয়সী দরিদ্র কৃষক ফালু মিয়া। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে দিনের পর দিন ব্যথা ও যন্ত্রণা সহ্য করেছেন তিনি। এমনকি প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার টাকাও জোগাড় করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকার আশাও ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সফল অস্ত্রোপচারের পর সেই ফালু মিয়ার মুখে এখন স্বস্তির হাসি।
ফালু মিয়া গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বদনীভাঙ্গা গ্রামের আফসার উদ্দিনের ছেলে। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের এই বৃদ্ধ কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন। অভাব-অনটনের কারণে অনেক সময় অনাহার ও অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়েছে তাঁর। এর মধ্যেই প্রায় দুই বছর ধরে হার্নিয়ার সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। চিকিৎসার ইচ্ছা থাকলেও অর্থের অভাবে তা সম্ভব হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর শারীরিক কষ্টও বাড়তে থাকে।
চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করতে বিভিন্ন মানুষের কাছে সাহায্য চেয়েছেন ফালু মিয়া। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের কাছেও আর্থিক সহায়তার জন্য হাত পেতেছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান হয়নি। একপর্যায়ে ওষুধ কেনার সামর্থ্যও হারিয়ে ফেলেন তিনি। দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা ও অসহায়ত্বে শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন এই বৃদ্ধ।
ফালু মিয়ার অসহায়ত্বের বিষয়টি উপজেলা বিএনপি নেতা এস এম মাহফুল হাসান হান্নানের মাধ্যমে গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর নজরে আসে। বিষয়টি জানার পর তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে ফালু মিয়াকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার নির্দেশ দেন সংসদ সদস্য।
এরপর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে সার্জারি বিভাগের কনসালট্যান্ট চিকিৎসক আহমেদ কবির চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক ফালু মিয়ার হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুই বছরের অসহনীয় যন্ত্রণার পর এখন অনেকটাই স্বস্তিতে ফালু মিয়া। যে মানুষটির দিন কাটত ব্যথা আর কান্নায়, সফল অস্ত্রোপচারের পর তাঁর চোখে এখন নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন।
ফালু মিয়া বলেন, ‘কত জনের কাছে ঘুরলাম, কত সাহায্য চাইলাম। কেউ এগিয়ে আসেনি। ওষুধের টাকাও জোগাড় করতে পারিনি। তাই দুই বছর যন্ত্রণা আর কান্নাকাটিতে কেটেছে। আমি যে বাঁচব, সেটাই বিশ্বাস হচ্ছিল না। অস্ত্রোপচারের পর এখন মনে হচ্ছে, আরো কয়েক বছর বাঁচতে পারব।’
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাননীয় এমপি মহোদয়ের নির্দেশে ফালু মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিশেষজ্ঞ সার্জনের মাধ্যমে সফলভাবে তাঁর হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার করা হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার এটাই প্রথম। অসহায় ও সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে আমাদের সক্ষমতার মধ্যে থাকা বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচার এখানেই করার চেষ্টা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। আমাদের মূল লক্ষ্যই সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।’
সানা/আপ্র/৮/৯/২০২৬