গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

ঘোড়াঘাটে ১২৫ একর জমিতে এক গভীর নলকূপ

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:১৯ পিএম, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ০২:১৭ এএম ২০২৬
ঘোড়াঘাটে ১২৫ একর জমিতে এক গভীর নলকূপ
ছবি

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ১২৫ একর জমির সেচের জন্য রয়েছে মাত্র একটি গভীর নলকূপ। চাহিদার তুলনায় পানি সরবরাহ কম হওয়ায় সময়মতো সেচ দিতে পারছেন না কৃষকেরা। পানির অভাবে কোথাও কোথাও জমি ফেটে যাচ্ছে, শুকিয়ে যাচ্ছে ধানের গোড়া। এতে আমন ধানের ফলন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকেরা।

দ্রুত আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপনের দাবিতে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন করেন কৃষকেরা। তাঁদের অভিযোগ, ঘোড়াঘাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নূরজাহনপুর গ্রামের প্রায় ১২৫ একর জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য একটি মাত্র গভীর নলকূপ রয়েছে। এসব জমির অধিকাংশই উঁচু হওয়ায় একবার সেচ দেওয়ার পর পানি বেশিদিন ধরে রাখা যায় না।

এ কারণে সেচের পানি পেতে কৃষকদের সিরিয়ালে দাঁড়াতে হচ্ছে। একবার সেচ দেওয়ার পর পরবর্তী সেচের জন্য অনেক কৃষককে ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে ধানের প্রয়োজনীয় সময়ে জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

কৃষকেরা জানান, প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে আমনের চারা রোপণ করা হয়েছে। বর্তমানে ধানের কুশি গজানো ও দ্রুত বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সময়। কিন্তু পর্যাপ্ত আর্দ্রতা না থাকায় আনুমানিক ১৫০ বিঘা জমির ধানের গোড়া শুকিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও মাটিতে ফাটলও দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি না হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।

মানববন্ধনে কৃষক সামছুল বলেন, ‘১২৫ একর জমির জন্য এখানে মাত্র একটি গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। এই একটি নলকূপ দিয়ে সবাইকে সময়মতো পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কেউ পানি পাচ্ছেন, আবার কেউ পাচ্ছেন না। পানির অভাবে জমিতে ফাটল ধরেছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বিঘাপ্রতি বীজ, সার ও কীটনাশক বাবদ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আরো ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হবে। এর সঙ্গে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের খরচও রয়েছে। সময়মতো পানি দিতে না পারলে এই বিনিয়োগ লোকসানে পরিণত হবে।’

কৃষক সুরুজ মিয়া বলেন, ‘৩৩ শতকে ২৫ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করি। এই জমির ফসল দিয়েই সারা বছরের সংসার চলে। দ্রুত আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা না হলে ধানের ফলন নিয়ে বড় ধরনের বিপদে পড়তে হবে।’

তিনি বলেন, ‘জমির দূরত্ব ও কৃষকদের প্রয়োজন বিবেচনা করে দ্রুত এখানে আরেকটি নলকূপ স্থাপন করা দরকার।’

এ বিষয়ে বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা সেচ কমিটির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান সুজন বলেন, ‘নূরজাহনপুরের বিষয়টি আমরা জানি ও অবগত আছি। বিষয়টি আবার সুবিবেচনাপূর্বক পুনরায় তদন্ত করে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হব।’

ঘোড়াঘাট উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবানা তানজিন বলেন, ‘সেচের একটি নীতিমালা আছে। নীতিমালার বাইরে কিছুই করার সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘নীতিমালার মধ্যে থাকলে আমরা লাইসেন্স দিয়ে থাকি। কেউ নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন করলে অবশ্যই লাইসেন্স পেয়ে যাবেন।’

মানববন্ধন থেকে দ্রুত আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপন, বিদ্যমান সেচব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো এবং আমন মৌসুমে সময়মতো সেচের পানি নিশ্চিত করার দাবি জানান কৃষকেরা।
সানা/আপ্র/৮/৯/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও ইয়াবা কারবারের অভিযোগ
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও ইয়াবা কারবারের অভিযোগ

টাঙ্গাইলের কান্দাপাড়া এলাকায় জিহাদ নামের এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, ইয়াবা বিক্রির চেষ্টা ও...

সাতক্ষীরায় কোরেক্সসহ দুই পুলিশ সদস্য গ্রেফতার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরায় কোরেক্সসহ দুই পুলিশ সদস্য গ্রেফতার

সাতক্ষীরায় ৫৬ বোতল নিষিদ্ধ কোরেক্স সিরাপসহ দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। সোম...

জামানতহীন ঋণের ফাঁদে নিঃস্ব নলুয়ার অর্ধশত পরিবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামানতহীন ঋণের ফাঁদে নিঃস্ব নলুয়ার অর্ধশত পরিবার

বেশি মুনাফার প্রলোভন, জামানত ছাড়াই দ্রুত বড় অঙ্কের ঋণ—এমন চটকদার প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়ে টাঙ্গাইলের স...

অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন, অ্যারিস্টোকেয়ারকে আইনি নোটিশ
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন, অ্যারিস্টোকেয়ারকে আইনি নোটিশ

চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগ এলাকায় অ্যারিস্টোকেয়ার হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসা কার্যক্রম...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

প্রধানমন্ত্রীর দেড়শ টাকার খাবারের দাওয়াত পেলেন বিরোধীদলীয় নেতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুপুরের খাবারের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা—এমন ব্যয়ের প্রশংসা করায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সেই খাবার খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে কার্যপ্রণালিবিধির ৬৮ বিধির আলোচনার একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুপুরের খাবারের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা—এমন ব্যয়ের প্রশংসা করায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সেই খাবার খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে কার্যপ্রণালিবিধির ৬৮ বিধির আলোচনার একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন প্রধান দুই দলের প্রধানদের এমন আচরণের ইতিবাচক প্রভাব দেশের রাজনীতিতে পড়বে ?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 44 মিনিট আগে