গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

মেনু

বসুন্ধরার দোকান থেকে ৫ বছরে ৯৪ কোটি টাকার স্বর্ণ আত্মসাতে সেলসম্যান গ্রেফতার

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৫৫ পিএম, ১৪ মে ২০২৬ | আপডেট: ২০:৩৯ এএম ২০২৬
বসুন্ধরার দোকান থেকে ৫ বছরে ৯৪ কোটি টাকার স্বর্ণ আত্মসাতে সেলসম্যান গ্রেফতার
ছবি

সিআইডির হাতে গ্রেফতার স্বর্ণ আত্মসাৎ করা সেলসম্যান কৃষ্ণ বসাক ওরফে স্বপন বসাক

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের একটি স্বর্ণালঙ্কারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ আত্মসাৎ করেছে ওই প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক সেলসম্যান। আত্মসাৎকৃত স্বর্ণের অর্থে নিজেই হয়েছে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মালিক, কিনেছে ফ্ল্যাট-গাড়ি এবং করেছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগও।

অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে ওই ব্যক্তি। গত মঙ্গলবার (১২ মে) বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতার ব্যক্তির নাম কৃষ্ণ বসাক ওরফে স্বপন বসাক (৪৭)।

মামলায় অভিযোগের বরাত দিয়ে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিম বিভাগ জানায়, গ্রেফতার কৃষ্ণ একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত ছিল। প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মচারীর সহযোগিতায় পাঁচ বছরে প্রায় ৯৪ কোটি টাকার স্বর্ণ আত্মসাৎ করে সে। এ ঘটনায় রাজধানীর তেজগাঁও থানায় গত বছরের ৯ আগস্ট মামলা করা হয়।

মামলার বাদীর বাবা বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক জুয়েলারি দোকান রয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রতিষ্ঠানের স্টক যাচাই-বাছাইয়ের সময় দেখা যায়, গত ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দোকান থেকে মোট ৭ হাজার ৫৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার (যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৪ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা) আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তদন্তে মামলায় উল্লেখিত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান। তিনি জানান, মামলার তদন্তে তারা জানতে পেরেছেন, গ্রেফতার অভিযুক্ত কৃষ্ণ বসাক বাদীর বাবার প্রতিষ্ঠানে সেলসম্যান থাকাকালীন অন্য সহযোগীদের নিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ আত্মসাৎ করেন।

তদন্তে আয়কর নথি ও আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনায় আরো জানা যায়, গ্রেফতার অভিযুক্ত কৃষ্ণ বসাক সেলসম্যান হিসেবে মাসিক ১০-১৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করলেও তার বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ, ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার মূল্যের একটি ফ্ল্যাট ও কার পার্কিং, পুঁজিবাজারে ১৬ লাখ ৭৮ হাজার ২৯৩ টাকার শেয়ার এবং আয়কর নথিতে ৫০ ভরি স্বর্ণ থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এসব স্বর্ণ প্রতিষ্ঠান থেকে আত্মসাৎ করা হতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে।

সিআইডি কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতার অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনায় অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে। আত্মসাৎ করা স্বর্ণ উদ্ধার ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য কৃষ্ণ বসাককে রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সিআইডি জানায়, এর আগেও এই মামলায় এজাহারভুক্ত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনিও ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্তসহ ঘটনায় জড়িত অন্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে সিআইডির অভিযান চলছে।
সানা/আপ্র/১৪/৫/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ১৫ শতাংশ ঘুষ দাবি, বিতর্কে দেবীগঞ্জের পিআইও
২৩ জুন ২০২৬

ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ১৫ শতাংশ ঘুষ দাবি, বিতর্কে দেবীগঞ্জের পিআইও

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখ...

দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন
২২ জুন ২০২৬

দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ও চেয়ারম্যান নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠিত হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) এ সং...

মোহাম্মদপুরে বাসার সামনে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম
১৯ জুন ২০২৬

মোহাম্মদপুরে বাসার সামনে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম

ঢাকার মোহাম্মদপুরে নিজ বাসার সামনে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

ট্রাইব্যুনাল আইন নিয়ে রিট বিতর্ক ও হেয় প্রতিপন্ন করার প্রচেষ্টা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট আবেদনটি ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত ও হেয় প্রতিপন্ন করার একটি প্রচেষ্টা। আপনি কি মনে করেন চিফ প্রসিকিউটরের মন্তব্য সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 19 ঘন্টা আগে