কুষ্টিয়ায় জামায়াতে ইসলামী ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গাড়ির কাচ ভেঙে আমির হামজা মাথায় আঘাত পান বলে জানিয়েছে পুলিশ। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে শহরের ছয়রাস্তা মোড়ে সংসদ সদস্য আমির হামজার বাসভবনের কাছে এ ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আহতদের কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের সবার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি সংসদ সদস্য আমির হামজা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে ‘কটূক্তি’ করে বক্তব্য দিয়েছেন—এমন অভিযোগ তুলে সংগঠনটির কুষ্টিয়া জেলা শাখার নেতাকর্মীরা শনিবার বিকেলে শহরের ছয়রাস্তা মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। সমাবেশস্থলের অদূরেই আমির হামজার বাসভবন।
সমাবেশের শেষ দিকে পুলিশ প্রটোকল নিয়ে আমির হামজা বাড়ি ফেরার সময় তাঁর গাড়ির ভেতর থেকে তাঁর সমর্থকেরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে প্রথমে হাতাহাতি এবং পরে সংঘর্ষ শুরু হয়।
দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে দল দুটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। একপর্যায়ে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান।
পরে মাগরিবের নামাজ চলাকালে জামায়াতের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে শহরের হাইস্কুল মার্কেটে গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তাঁরা ছয়রাস্তা মোড়ের হরিপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে গণঅধিকার পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল খালেকের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান।
এ ঘটনায় শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ বলেন, আমির হামজা তাঁদের দলকে নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিয়েছেন। এর প্রতিবাদে তাঁরা ছয়রাস্তা মোড়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। এ সময় আমির হামজার গাড়ি সেখানে পৌঁছালে জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাঁদের সমাবেশে অতর্কিত হামলা চালান। পরে দলীয় কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়।
তৌকির আহমেদ দাবি করেন, হামলায় তিনি ও গণঅধিকার পরিষদের আরো দুজন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেন, তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একটি কর্মসূচিতে ছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে তাঁর বাবা-মাকে নিয়ে গালাগালি করা হচ্ছে বলে খবর পান। পরে সদর থানার ওসির গাড়ির পেছনে তাঁর গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক ও সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদের নেতৃত্বে একদল লোক লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে তাঁর গাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আমির হামজা দাবি করেন, হামলায় তিনি নিজেসহ জামায়াতের সাতজন কর্মী আহত হয়েছেন।
এলাকায় পুলিশ মোতায়েন
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সংসদ সদস্যের বাসভবনসহ আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সানা/আপ্র/১৬/৮/২০২৬