বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অ্যাথলেট কবিতা রায় নারী বিভাগে প্রতিযোগিতার যোগ্যতা-সংক্রান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় তাঁদের নারী বিভাগে প্রতিযোগিতা থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে তাঁদের অর্জিত সব পদক ও রেকর্ড বাতিল করে সেগুলো বিধি অনুযায়ী পরবর্তী অবস্থানে থাকা অ্যাথলেটদের মধ্যে পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির দ্বিতীয় সভায় চিকিৎসা বোর্ডের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেশের অ্যাথলেটিকসে এটি একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে ফেডারেশন।
জান্নাতের বয়স ২৮ বছর এবং কবিতার ১৯ বছর। জান্নাত জ্যাভলিন থ্রো ও ডিসকাস থ্রোতে এবং কবিতা ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪দ্ধ১০০ মিটার ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছিলেন।
পরীক্ষা ও চিকিৎসা বোর্ডের প্রতিবেদন
দুই অ্যাথলেটের নারী বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বৈধতা নিয়ে ২০২৪ সালে প্রশ্ন ওঠে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগ নেয় অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের আগের কমিটি।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে। বোর্ডের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ২০২৬ সালের ১১ মে শেষ হয় এবং ১৬ মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনের কাছে জমা দেওয়া হয়।
ফেডারেশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনে জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়ের হরমোন ও শারীরিক পরীক্ষায় ৪৬, এক্সওয়াই, ডিএসডি—অর্থাৎ যৌন বিকাশের পার্থক্য—সংক্রান্ত ফল পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, উভয়ের পেনোস্ক্রোটাল হাইপোস্পেডিয়াস রয়েছে এবং উভয় গোনাড বা জননগ্রন্থি ইনগুইনাল ক্যানেলে অবস্থিত।
রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রার পরীক্ষাতেও দুই অ্যাথলেট নির্ধারিত সীমা পূরণ করতে পারেননি। জান্নাতের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পাওয়া গেছে ১৯ দশমিক ৬৬ ন্যানোমোল প্রতি লিটার, আর কবিতার ১৬ দশমিক ৫০ ন্যানোমোল প্রতি লিটার।
ফেডারেশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের যৌন বিকাশের পার্থক্যসংক্রান্ত বিধিমালা অনুযায়ী নারী বিভাগে প্রতিযোগিতা করতে হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাথলেটের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ২ দশমিক ৫ ন্যানোমোল প্রতি লিটারের নিচে থাকতে হয়। দুই অ্যাথলেটই এই শর্ত পূরণ করতে পারেননি।
বাতিল হচ্ছে জাতীয় রেকর্ড ও পদক
মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটি দুই অ্যাথলেটকে নারী অ্যাথলেট হিসেবে প্রতিযোগিতা থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি তাঁদের অর্জিত পদক ও রেকর্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
ফেডারেশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জান্নাত বেগমের জ্যাভলিন থ্রো ও ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে অর্জিত দুটি নতুন জাতীয় রেকর্ডসহ আটটি সোনা, একটি রুপা ও দুটি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে কবিতা রায়ের ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪দ্ধ১০০ মিটার ইভেন্টে অর্জিত একটি করে সোনা ও রুপা এবং দুটি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করা হয়েছে।
বাতিল করা পদক ও রেকর্ডের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইভেন্টে পরবর্তী অবস্থানে থাকা অ্যাথলেটদের বিধি অনুযায়ী পদক পুনর্বণ্টন করা হবে বলে জানিয়েছে ফেডারেশন।
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন বলেন, চিকিৎসক বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দুই অ্যাথলেটকে নারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। সে কারণে জাতীয় প্রতিযোগিতায় তাঁদের অর্জিত পদক বাতিল করা হয়েছে এবং নারী বিভাগে তাঁদের প্রতিযোগিতায় স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
ফেডারেশনের এ সিদ্ধান্তের ফলে জান্নাত ও কবিতার জাতীয় পর্যায়ের অর্জন, রেকর্ড এবং ভবিষ্যতে নারী বিভাগে অংশগ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হলো।
সানা/আপ্র/১৬/৮/২০২৬