যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় বিরল ঘটনার জন্ম দিয়েছেন ক্রিস্টা গেইল পাইক। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য তাকে দুই ডোজ ওষুধ দেওয়ার পরও তিনি মারা যাননি। বরং কারাগারের কক্ষে তাকে জোরে নাক ডাকতে শোনা যায়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে কারাগার থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
৫০ বছর বয়সী পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা ছিল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায়। ১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী সহপাঠী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে তার মৃত্যুদণ্ড হয়। ওই হত্যাকাণ্ডে পাইক জড়িত ছিলেন ১৮ বছর বয়সে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রায় এক ঘণ্টা আগে একটি আপিল আদালত তা স্থগিত করেছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত সেই স্থগিতাদেশ বাতিল করে দেয়। এরপর রাতে কারা কর্তৃপক্ষ পাইককে দুই ডোজ পেন্টোবারবিটাল দেয় বলে তার আইনজীবীরা আদালতকে জানান।
দুই ডোজের পরও জীবিত
প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে উপস্থিত সংবাদকর্মীরা জানান, রাত ৭টা ২৭ মিনিটে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কক্ষের পর্দা সরানো হলে পাইককে একটি শয্যায় বেঁধে রাখা অবস্থায় দেখা যায়। তখনও তিনি জেগে ছিলেন। একপর্যায়ে নিজের মাথা তুলে কারা কর্মকর্তাদের কাছে তিনি জানতে চান, তার হাতে এমন অনুভূতি হওয়ার কথা কি না।
রাত ৮টা ২৬ মিনিটে তাকে দ্বিতীয় ডোজ ওষুধ দেওয়ার কথা জানা যায়। এরপরও বন্ধ পর্দার আড়াল থেকে পাইকের নাক ডাকার শব্দ শোনা যায়। রাত ৮টা ৫৩ মিনিটে মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সংবাদকর্মীদের সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়।
পাইকের আইনজীবীরা জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও তিনি জীবিত ছিলেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে পরে কারা কর্তৃপক্ষ বা আইনজীবীরা আর বিস্তারিত তথ্য দেননি।
মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক বিশেষজ্ঞ রবিন মাহের ঘটনাটিকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে সাতজন বন্দি শিরায় ওষুধ প্রবেশ করাতে ব্যর্থতার কারণে মৃত্যুদণ্ড থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। তবে মৃত্যুদণ্ডের ওষুধ দেওয়ার পরও কোনো বন্দি জীবিত থাকার ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
যে হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ড
পাইক ও তার প্রেমিক ১৯৯৫ সালে টেনেসির নক্সভিলে তাদের সহপাঠী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, পাইক স্লেমারকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং পাথরের বড় টুকরা দিয়ে মারধর করা হয়।
পরে পাইকের প্রেমিক তার শরীরে শয়তান উপাসনার সঙ্গে যুক্ত একটি তারকাচিহ্ন খোদাই করেছিলেন বলে স্বীকার করেন। ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অন্যদিকে, পাইকের আইনজীবীরা তার বয়স, মানসিক অসুস্থতা এবং শৈশবে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এনে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও পাইককে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানিয়ে তার আইনজীবীরা আদালতে জরুরি আবেদন করেন।
টেনেসিতে দ্বিতীয় ব্যর্থতা
এ বছর টেনেসিতে এটি দ্বিতীয় ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। এর আগে মে মাসে টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এক ঘণ্টারও বেশি সময় চেষ্টা করেও তার শরীরে শিরার মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়নি।
টেনেসিতে ২০২৪ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়। আগে তিন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হলেও পরে এক ধরনের ওষুধ পেন্টোবারবিটাল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ওষুধ যথাযথভাবে পরীক্ষা না করার কারণে আরেকটি মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল।
সূত্র: এপি, সিএনএন
এসি/আপ্র/০১/১০/২০২৬