১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ড এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ‘রেজিম চেঞ্জ’কে একই সূত্রে গাঁথা বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের নেতারা। তাঁদের দাবি, বাংলাদেশের ‘জন্মশত্রু’ ও ‘চিরশত্রুরা’ মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে এবং প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এসব ঘটনা ঘটিয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে জাসদ কার্যালয়ের কর্নেল তাহের মিলনায়তনে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় দলটির নেতারা এসব কথা বলেন। দলটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আলোচনা সভার আগে দলীয় কার্যালয়ের পাশে রাখা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জাসদের নেতাকর্মীরা। পরে তাঁরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বক্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ‘রেজিম চেঞ্জ’ একই ধারাবাহিকতার অংশ। তাঁদের ভাষায়, সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা শুধু বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসেই নয়, বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসেও একটি কালো ও কলঙ্কিত দিন এবং বড় বিয়োগান্তক ঘটনা।
জাসদ নেতারা আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁদের দাবি, মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি ও বাংলাদেশের ‘চিরশত্রুরা’ প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি বাস্তবায়ন করছে।
ইনু ও জাসদ নেতাদের দণ্ড নিয়েও বক্তব্য
আলোচনায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর প্রসঙ্গও উঠে আসে। বক্তারা বলেন, জিয়াউর রহমানের সামরিক আদালতে হাসানুল হক ইনুকে দণ্ড দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারে তাঁকে দণ্ড দেওয়া একই ধারাবাহিকতার অংশ।
সভায় জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি শফিউদ্দিন মোল্লা সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাইফুজ্জামান বাদশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহিল কাইয়ূম, দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, জাতীয় যুব জোটের সভাপতি শরিফুল কবির স্বপন এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া।
১৫ আগস্টের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও ছুটি বাতিলের ধারাবাহিকতা
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা এবং সরকারি ছুটি চালু করা হয়।
২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার জাতীয় শোক দিবস ও সরকারি ছুটি বাতিল করে। পরে ২০০৮ সালে একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাই কোর্ট ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন। এরপর ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল।
তবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০০৮ সালের হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে লিভ টু আপিল করে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ হাই কোর্টের রায় স্থগিত করেন। এর ফলে ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবসের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সরকারি ছুটির ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যায়।
সানা/আপ্র/১৬/৮/২০২৬