গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

মেনু

বিশ্বে মানসিক সমস্যায় ভুগছে দশ শিশুর মধ্যে একজন

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:২৫ পিএম, ০৬ মে ২০২৬ | আপডেট: ২১:১৮ এএম ২০২৬
বিশ্বে মানসিক সমস্যায় ভুগছে দশ শিশুর মধ্যে একজন
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী প্রতি দশজন শিশু ও কিশোর-কিশোরীর মধ্যে একজন মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। ১৫-১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যা, মৃত্যুর চতুর্থ সর্বোচ্চ কারণ। কোনো কোনো মা-বাবা ও অভিভাবক আক্ষেপ করেন, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মানসিক রোগের লক্ষণগুলো সম্পর্কে জানতে পারলে হয়তো আগেই সন্তানের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারতেন। তাই এ বিষয়ে গণসচেতনতা বাড়াতে হবে। মানসিক অসুস্থতা নিয়ে সবার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার। মনে রাখতে হবে, মানসিক রোগ কোনো অপরাধ বা ব্যর্থতা নয়। শিশু ও বয়স্ক যে কারোরই মানসিক অসুখ হতে পারে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার আছে। এ রকম লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন।

শিশুদের ক্ষেত্রে নিচের লক্ষণগুলো দেখলে মনোরোগ চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে- যাতে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করতে পারেন। শিশু যদি ঘন ঘন রেগে ওঠে অথবা বেশির ভাগ সময় ভীষণভাবে খিটখিটে হয়, প্রায়ই ভয় বা উদ্বেগের কথা বলে, কোনো কারণ ছাড়া বারবার পেটব্যথা বা মাথাব্যথা সম্পর্কে অভিযোগ করে, সব সময় অস্থির থাকে এবং চুপ করে বসে থাকতে না পারে, খুব বেশি কিংবা কম ঘুমায়, দুঃস্বপ্ন দেখে, অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে আগ্রহী না হয় অথবা বন্ধুত্ব করতে না পারে, পরীক্ষায় হঠাৎ খারাপ ফল করে ইত্যাদি। এ ছাড়া কিশোর-কিশোরীরা যে বিষয়গুলো উপভোগ করত- সেগুলোয় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, তাদের দুর্বল লাগে, খুব বেশি কিংবা কম ঘুমায় অথবা সারাদিন তন্দ্রাচ্ছন্ন বোধ করে, বেশির ভাগ সময় একা থাকে, বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ এড়িয়ে চলে, ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে থাকে অথবা খুব কম খায়, নিজেকে আঘাত করে, একা বা বন্ধুদের সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ বা আক্রমণাত্মক আচরণে লিপ্ত হয়, আত্মহত্যার চিন্তা করে, ভাবে যে কেউ তাদের মনকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে বা তারা এমন কিছু শোনে- যা অন্যরা শুনতে পায় না।

আচরণগত ও মানসিক সমস্যা সম্পর্কিত উদ্বেগগুলো পারিবারিক ডাক্তার বা শিশু বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে, তারা তখন শিশু বা কিশোরকে শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর কাছে পাঠাতে পারেন।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা শুধু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অন্যান্য মাধ্যমেও ছড়িয়ে দিতে হবে। ¯ু‹ল, বাসা ও ডিজিটাল পরিসরও যেন মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার মাধ্যম হয়ে ওঠে। এ জন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করা দরকার। শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যকে এখন আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ ও সক্ষম হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তাদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

আপ্র/ কেএমএএ/০৬.০৫.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

সামাজিক দূরত্ব আর অর্থনৈতিক যন্ত্রণাতেই ঘটে নারীর আত্মহত্যা
০৬ মে ২০২৬

সামাজিক দূরত্ব আর অর্থনৈতিক যন্ত্রণাতেই ঘটে নারীর আত্মহত্যা

বেঁচে থাকার আনন্দটুকু যখন ফিকে হয়ে আসে, তখন অস্তিত্বের ভার বহন করা বড় অসহ্য ঠেকে। মানুষ তখন আত্মহত্য...

নারীর ঘর আর বাইরের পেশাগত শ্রমমূল্য এখনো অদৃশ্য-অস্বীকৃত
০৬ মে ২০২৬

নারীর ঘর আর বাইরের পেশাগত শ্রমমূল্য এখনো অদৃশ্য-অস্বীকৃত

সকাল থেকে রাত- একজন নারীর দিন যেন শেষই হতে চায় না। ঘরের কাজ, সন্তানের যত্ন, পরিবারের দেখাশোনা, এর সঙ...

মুসলিম লীগের ইতিহাসে প্রথম নারী বিধায়ক ফাতেমা
০৬ মে ২০২৬

মুসলিম লীগের ইতিহাসে প্রথম নারী বিধায়ক ফাতেমা

বামদের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কেরালার পেরামব্রা বিধানসভা কেন্দ্রে জয় পেয়েছেন ইন্ডিয়ান ইউনিয়...

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে কিশোরীর পথচলা
০৬ মে ২০২৬

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে কিশোরীর পথচলা

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বাকুয়া গ্রামের ১৮ বছর বয়সি মেঘলা খাতুন শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই