গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

মেনু

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে কিশোরীর পথচলা

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:২০ পিএম, ০৬ মে ২০২৬ | আপডেট: ১০:২২ এএম ২০২৬
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে কিশোরীর পথচলা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বাকুয়া গ্রামের ১৮ বছর বয়সি মেঘলা খাতুন শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এগিয়ে চলার এক উদাহরণ। এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়েই কলেজে যাওয়ার চেষ্টা করে মেঘলা। কিন্তু দারিদ্র্য যেন বারবার থামিয়ে দিচ্ছে তার পথচলা। তবুও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর মেধাকে সঙ্গী করে এগিয়ে যেতে চায় সে। জন্ম থেকেই তার একটি পা ছোট ও দুর্বল। ফলে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। তবুও থেমে থাকেননি তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি হামিদা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৮৩ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে হামিদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে একই বিভাগে পড়াশোনা করছেন। তবে তার শিক্ষাজীবনের বড় বাধা দারিদ্র্য। বাবা দিনমজুর হওয়ায় সংসারের খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। ফলে নিয়মিত কলেজে যাওয়া সম্ভব হয় না মেঘলার। মাসে মাত্র তিন থেকে চার দিন কলেজে যেতে পারেন তিনি। বাকি সময় বাড়িতেই পড়াশোনা চালিয়ে যান।

মেঘলা খাতুন বলেন, ‘আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। কিন্তু আমার বাবা বই কিনে দিতে পারেন না, প্রতিদিন যাতায়াতের ভাড়াও জোগাতে পারেন না। কলেজে ফ্রি পড়ার সুযোগ পেয়েছি, স্যাররাও সাহায্য করেন। যদি একটি তিন চাকার স্কুটি পেতাম, তাহলে নিয়মিত কলেজে যেতে পারতাম।’

মেয়ের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা আরজিনা খাতুন। তিনি বলেন, ‘মেয়ের জন্য কিছু করতে না পারার কষ্ট খুবই কষ্টদায়ক। সবাই যদি একটু সাহায্য করেন, তাহলে আমার মেয়ে তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।’

দিনমজুর বাবা আমির হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন যা আয় করি, তা দিয়ে সংসারই চলে না। মেয়ের পড়াশোনা আর যাতায়াতের খরচ বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। যদি কেউ একটি স্কুটির ব্যবস্থা করে দিতেন, তাহলে সে নিয়মিত কলেজে যেতে পারত।’

স্থানীয়রা জানায়, ছোটবেলা থেকেই মেঘলা মেধাবী ও পরিশ্রমী। প্রতিকূলতার মধ্যেও তার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ প্রশংসনীয়। তারা মনে করেন, সামান্য সহায়তা পেলে মেঘলা ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যেতে পারবে।

কলেজের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মেঘলা অত্যন্ত মেধাবী। আমরা তাকে সহায়তা করার চেষ্টা করছি। তবে তার নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চলাচলের একটি ব্যবস্থা জরুরি।’

দ্য বার্ড সেফটি হাউজের চেয়ারম্যান ও পরিবেশকর্মী মামুন বিশ্বাস বলেন, ‘এটি শুধু একটি পরিবারের সমস্যা নয়; আমাদের সমাজের দায়। সবাই এগিয়ে এলে মেঘলার মতো আরও অনেক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।’

অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর সংগ্রামের প্রতীক মেঘলা এখন সমাজের সহানুভূতি ও সহায়তার অপেক্ষায়। একটি তিন চাকার স্কুটি তার শিক্ষাজীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন তিনি ও তার পরিবার।

আপ্র/কেএমএএ/০৬.০৫.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

সামাজিক দূরত্ব আর অর্থনৈতিক যন্ত্রণাতেই ঘটে নারীর আত্মহত্যা
০৬ মে ২০২৬

সামাজিক দূরত্ব আর অর্থনৈতিক যন্ত্রণাতেই ঘটে নারীর আত্মহত্যা

বেঁচে থাকার আনন্দটুকু যখন ফিকে হয়ে আসে, তখন অস্তিত্বের ভার বহন করা বড় অসহ্য ঠেকে। মানুষ তখন আত্মহত্য...

বিশ্বে মানসিক সমস্যায় ভুগছে দশ শিশুর মধ্যে একজন
০৬ মে ২০২৬

বিশ্বে মানসিক সমস্যায় ভুগছে দশ শিশুর মধ্যে একজন

বিশ্বব্যাপী প্রতি দশজন শিশু ও কিশোর-কিশোরীর মধ্যে একজন মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। ১৫-১৯ বছর বয়সীদের মধ্য...

নারীর ঘর আর বাইরের পেশাগত শ্রমমূল্য এখনো অদৃশ্য-অস্বীকৃত
০৬ মে ২০২৬

নারীর ঘর আর বাইরের পেশাগত শ্রমমূল্য এখনো অদৃশ্য-অস্বীকৃত

সকাল থেকে রাত- একজন নারীর দিন যেন শেষই হতে চায় না। ঘরের কাজ, সন্তানের যত্ন, পরিবারের দেখাশোনা, এর সঙ...

মুসলিম লীগের ইতিহাসে প্রথম নারী বিধায়ক ফাতেমা
০৬ মে ২০২৬

মুসলিম লীগের ইতিহাসে প্রথম নারী বিধায়ক ফাতেমা

বামদের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কেরালার পেরামব্রা বিধানসভা কেন্দ্রে জয় পেয়েছেন ইন্ডিয়ান ইউনিয়...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই