গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

মেনু

নারীর ঘর আর বাইরের পেশাগত শ্রমমূল্য এখনো অদৃশ্য-অস্বীকৃত

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:২৩ পিএম, ০৬ মে ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৫২ এএম ২০২৬
নারীর ঘর আর বাইরের পেশাগত শ্রমমূল্য এখনো অদৃশ্য-অস্বীকৃত
ছবি

ছবি সংগৃহীত

সকাল থেকে রাত- একজন নারীর দিন যেন শেষই হতে চায় না। ঘরের কাজ, সন্তানের যত্ন, পরিবারের দেখাশোনা, এর সঙ্গেই অনেকের আবার থাকে বাইরের পেশাগত দায়িত্ব- সব মিলিয়ে নারী প্রতিনিয়ত শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। অথচ এই শ্রমের বড় একটি অংশ থেকে যায় অদৃশ্য, অস্বীকৃত; বিশেষ করে গ্রামীণ নারীরা কৃষিকাজ, গবাদিপশু পালন, ঘরের কাজ- সবকিছু একসঙ্গে সামলালেও তাদের শ্রমকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণনা করা হয় না। প্রশ্ন উঠছে ঘরে-বাইরে এত অবদান রাখার পরও নারীর শ্রমের প্রকৃত স্বীকৃতি কোথায়? বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক সমাজেই নারীর কাজকে এখনো ‘স্বাভাবিক দায়িত্ব’ হিসেবে দেখা হয়, শ্রম হিসেবে নয়। ঘরের রান্না, কাপড় ধোয়া, শিশু বা বয়স্কদের যত্ন- এসব কাজের কোনো অর্থনৈতিক মূল্য নির্ধারণ করা হয় না।

গবেষণায় দেখা গেছে, নারীর ওই অদৃশ্য শ্রম অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখে এবং শ্রমমূল্য যোগ করে দেখলে বড় অঙ্কের সংখ্যায় দাঁড়ায়। তবুও এটি অগোচরেই থেকে যায়, কোনো বেতন বা সামাজিক স্বীকৃতি ছাড়াই। অন্যদিকে কর্মজীবী নারীরা দ্বৈত চাপে থাকেন প্রতিনিয়তই। অফিস শেষে বাড়ি ফিরলেও তাদের জন্য অপেক্ষা করে আরেক শিফট- ঘরের কাজের দায়িত্ব। ফলে শারীরিক ও মানসিকভাবে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু এই অতিরিক্ত শ্রমের জন্য তেমন কোনো স্বীকৃতি বা সহানুভূতি পান না। নারীর শ্রমের স্বীকৃতি দিতে হলে শুধু কথায় পরিবর্তন নয়, বাস্তব পদক্ষেপ জরুরি। পরিবারে দায়িত্ব ভাগাভাগি, কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ এবং সামাজিক সচেতনতা- এ তিনটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে নারীর শ্রম আর অদৃশ্য থাকবে না।

ঢাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত এক নারী বলেন, অফিসে ৮-৯ ঘণ্টা কাজ করার পর বাসায় ফিরে আবার রান্না, সন্তানের পড়া- সবই সামলাতে হয়। পরিবারের কেউ এটাকে আলাদা করে ‘কাজ’ মনে করে না। মনে হয়, এটা যেন আমার দায়িত্বই। এ প্রসঙ্গে এক গৃহিণী বলেন, সারাদিন ঘরের কাজ করি। কিন্তু কেউ জিজ্ঞেস করে না আমি ক্লান্ত কি না। অনেক সময় মনে হয়, আমি রোবট। আমার কোনো অবসর নেই, ছুটি নেই। আসলে আমার কাজের কোনো মূল্যই নেই।’ এই পরিস্থিতি শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি একটি সামাজিক কাঠামোর প্রতিফলন।

ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের শেখানো হয়- ঘরের কাজ তাদের দায়িত্ব। ফলে তারা নিজেরাও অনেক সময় নিজেদের শ্রমকে গুরুত্ব দিতে শেখেন না। অন্যদিকে পুরুষদের ঘরের কাজে অংশগ্রহণ এখনও অনেক পরিবারে অনেক ক্ষেত্রে সীমিত। নারীর শ্রমের স্বীকৃতি মানে শুধু প্রশংসা নয়; বরং তার কাজের মূল্য বোঝা এবং সম্মান করা। এটি পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্র পর্যন্ত বিস্তৃত একটি পরিবর্তনের দাবি রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীর শ্রমের স্বীকৃতি দিতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন। তাই প্রথমেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কাজের সমতা নিশ্চিত করতে হবে। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও নীতিগত স্বীকৃতি জরুরি। যেমন- গৃহস্থালি কাজকে অর্থনৈতিক পরিমাপে অন্তর্ভুক্ত করা কিংবা কর্মজীবী নারীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা।

কর্মক্ষেত্রে নারীরা অনেক সময় সমান কাজ করেও সমান মজুরি পান না। এটি নারীর শ্রমের অবমূল্যায়নের আরেকটি দিক। তাই প্রয়োজন সমান মজুরি নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা। দিন শেষে যে প্রশ্নটি থেকেই যায়- নারী যে ঘরে-বাইরে অবিরাম শ্রম দিয়ে যাচ্ছে, এর যথাযথ মূল্যায়ন আমরা কবে করতে পারব? মূল কথা নারীর কাজের স্বীকৃতির এই পথ যত দ্রুত উন্মুক্ত হবে, ততই এগিয়ে যাবে আমাদের সমাজ, নিশ্চিত হবে সত্যিকারের সমতা।

আপ্র/কেএমএএ/০৬.০৫.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

অবৈধ শুক্রাণু দানের ফাঁদে ব্রিটিশ নারীরা
১১ জুন ২০২৬

অবৈধ শুক্রাণু দানের ফাঁদে ব্রিটিশ নারীরা

 অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ শুক্রাণু দানের ফাঁদে অসহায় হয়ে পড়ছেন যুক্তরাজ...

শিশুদের সঙ্গে ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
০১ জুন ২০২৬

শিশুদের সঙ্গে ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে ঈদ-পরবর...

রামিসা হত্যাসহ টিকা সংকটে মৃত্যুর বিচার দাবিতে মিছিল
২৫ মে ২০২৬

রামিসা হত্যাসহ টিকা সংকটে মৃত্যুর বিচার দাবিতে মিছিল

রামিসাসহ সকল ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড এবং হামের টিকা সংকটে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর বিচার দাবিতে কাফন মিছিল ও সমা...

শিশু নির্যাতন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি ইউনিসেফের
২৩ মে ২০২৬

শিশু নির্যাতন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি ইউনিসেফের

বাংলাদেশে শিশুদের ওপর সাম্প্রতিক নির্মম সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ। সংস...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

২০২৫ সালে সেবা খাতে ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা

দেশের বিভিন্ন সেবা খাতে ২০২৫ সালে ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ আনুমানিক ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, এই পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। আপনি কি মনে করেন এই জরিপ সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে