গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটে পারমাণবিক বিদ্যুতের নতুন যুগ শুরু

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৪৪ পিএম, ১০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০৩:৪৩ এএম ২০২৬
বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটে পারমাণবিক বিদ্যুতের নতুন যুগ শুরু
ছবি

এ মিশনে ‘বোর’ স্যাটেলাইটের পাশাপাশি আরো ৮০টি পেলোডকে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে নিয়ে গেছে স্পেসএক্স -ছবি স্পেসএক্স

প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটে পারমাণবিক শক্তিচালিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিয়ে মহাকাশে যাত্রা শুরু হয়েছে। ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের রকেটের মাধ্যমে পরমাণু শক্তি ব্যবহারকারী একটি বাণিজ্যিক পেলোড সফলভাবে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে। মহাকাশ প্রযুক্তিতে এটি নতুন এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেইস থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে ‘ট্রান্সপোর্টার-১৭’ মিশন উৎক্ষেপণ করা হয়। এই মিশনের মাধ্যমে মায়ামিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সিটি ল্যাবসের তৈরি ‘বিটাভোল্টাইক অরবিটাল হাই-রিলায়াবিলিটি’ বা ‘বোর’ নামের একটি ছোট স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হয়েছে।

‘বোর’ স্যাটেলাইটের প্রধান লক্ষ্য হলো, যেসব মহাকাশ অভিযানে সৌরশক্তি বা প্রচলিত ব্যাটারি পর্যাপ্ত কার্যকর নয়, সেখানে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার কতটা কার্যকর হতে পারে তা পরীক্ষা করা। বিশেষ করে চাঁদের দূরবর্তী অঞ্চল কিংবা দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ কার্যক্রমে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সিটি ল্যাবসের প্রধান নির্বাহী পিটার কাবাউই বলেন, বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযানে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। তার ভাষ্য, ছোট আকারের, নিরাপদ এবং অনুমোদিত পারমাণবিক শক্তি ব্যবস্থা এখন নিয়মিত বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।

তিনি বলেন, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সূর্যালোক কিংবা ব্যাটারির সীমাবদ্ধতা ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে মহাকাশযানের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

‘বোর’ স্যাটেলাইটটি ট্রিটিয়ামের তেজস্ক্রিয় ক্ষয় থেকে উৎপন্ন বিটা কণাকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে কাজ করে। এর মাধ্যমে মহাকাশে দীর্ঘস্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এতদিন পর্যন্ত পারমাণবিক শক্তিনির্ভর মহাকাশ প্রযুক্তি মূলত সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত বৈজ্ঞানিক ও সামরিক প্রকল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এর আগে নাসার ‘ভয়েজার ১’ ও ‘ভয়েজার ২’ মহাকাশযান ১৯৭৭ সালে উৎক্ষেপণের পর থেকে আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশ থেকে তথ্য পাঠাতে পারমাণবিক শক্তির উৎস ব্যবহার করে আসছে।

এ ছাড়া নাসার মঙ্গলগ্রহ অভিযানের ‘কিউরিওসিটি’ ও ‘পার্সিভ্যারেন্স’ রোভারেও পারমাণবিক শক্তি ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। মঙ্গলের ধূলিঝড় কিংবা সূর্যালোকের পরিবর্তনের কারণে যখন সৌর প্যানেল কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না, তখন এসব রোভারকে সচল রাখতে পারমাণবিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

স্পেসএক্সের ‘ট্রান্সপোর্টার-১৭’ মিশনে ‘বোর’ স্যাটেলাইটের পাশাপাশি আরো ৮০টি পেলোড পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে।

উৎক্ষেপণের সরাসরি সম্প্রচারে স্পেসএক্স জানিয়েছে, এ ধরনের মিশন বিশ্বজুড়ে ছোট স্যাটেলাইট পরিচালনাকারীদের জন্য মহাকাশে পৌঁছানোর সুযোগ আরো ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/১০/৭/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

মঙ্গলে ৪৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে রেকর্ড গড়ল পার্সিভ্যারেন্স
১৪ অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলে ৪৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে রেকর্ড গড়ল পার্সিভ্যারেন্স

মঙ্গল গ্রহের বুকে দূরনিয়ন্ত্রিত যান চালনার ক্ষেত্রে দীর্ঘতম পথ পাড়ি দেওয়ার রেকর্ড গড়েছে মার্কিন মহাক...

এআই অপব্যবহারে জৈব সন্ত্রাস ও সাইবার হামলার শঙ্কা গেটসের
১৩ অক্টোবর ২০২৬

এআই অপব্যবহারে জৈব সন্ত্রাস ও সাইবার হামলার শঙ্কা গেটসের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সবচেয়ে তাৎক্ষণিক বিপদ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া প্রযুক্তি নয়, বরং অপরাধ...

৬৬ বছর আগের গবেষণায় ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংসের পূর্বাভাস
১৩ অক্টোবর ২০২৬

৬৬ বছর আগের গবেষণায় ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংসের পূর্বাভাস

আর মাত্র এক মাস পরই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে- এমন দাবি করেছিল ৬৬ বছর আগের একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা। ১৯৬০ স...

৫০ বছরের কম বয়সিদের কয়েক ধরনের ক্যান্সার বাড়ছে
০৭ অক্টোবর ২০২৬

৫০ বছরের কম বয়সিদের কয়েক ধরনের ক্যান্সার বাড়ছে

বিশ্বজুড়ে ৫০ বছরের কম বয়সিদের মধ্যে কয়েক ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ইংল্যান্ড, যুক্তর...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে