চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধ এলাকার প্রায় ৮০ শতাংশ জায়গা থেকে পানি নেমে গেছে বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। অবশিষ্ট যেসব নিচু এলাকায় এখনো পানি জমে আছে, সেসব স্থানের সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মেয়র।
এর আগে অতিভারি বৃষ্টিতে রোববার রাত থেকে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে নগরীর অনেক এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। বুধবার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে নগরীর বড় অংশ জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে পানি নামতে শুরু করে।
তবে শুক্রবারও চান্দগাঁও, মোহরা, হালিশহর, পতেঙ্গা, ষোলশহর ও আগ্রাবাদের কিছু এলাকায় পানি জমে ছিল।
শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীতে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি না হলেও আগের ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তরের হিসাবে ১৫৪ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। জলাবদ্ধ পরিস্থিতি পরিদর্শন এবং পানিবন্দি মানুষের খোঁজ নিতে শুক্রবার নগরীর চান্দগাঁও ও মোহরার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।
মেয়র ও সংসদ সদস্য চান্দগাঁও হাজীরপোল, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, বালুরটাল, অনন্যা আবাসিক ও শমসেরপাড়া এলাকাসহ বিভিন্ন জলাবদ্ধ স্থান পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে কোথায় পানি আটকে আছে, পানি নিষ্কাশনে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং দ্রুত সমাধানে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন-এসব বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত নেন তারা।
পরিদর্শন শেষে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “নগরীর প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা থেকে এরই মধ্যে পানি নেমে গেছে। তবে কিছু নিচু এলাকায় এখনো পানি জমে আছে। এসব এলাকায় কেন পানি দ্রুত নামছে না, তা স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি।” তিনি বলেন, “সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই অবশিষ্ট এলাকাগুলো থেকেও পানি সম্পূর্ণ নেমে যাবে।”
মেয়র আরো বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো জলাবদ্ধতা নিরসনে নিরবচ্ছিন্নভাবে মাঠে কাজ করছে। কোথাও পানি নিষ্কাশনে বাধা থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, যেসব নিচু এলাকায় এখনো পানি জমে আছে, সেখান থেকেও দ্রুত পানি নেমে যাবে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “পানিবন্দি মানুষের পাশে সরকার রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে একা রাখা হবে না।”
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাত ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত ৯৬ ঘণ্টায় পতেঙ্গা আবহাওয়া কেন্দ্রে মোট ১ হাজার ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের কয়েকটি উপজেলা প্লাবিত হয়ে প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
সানা/আপ্র/১০/৭/২০২৬