২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। ডারউইনে সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগে স্বাগতিকদের একাদশে ফিরেছেন মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়নের মতো অভিজ্ঞরা। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ তাই কঠিনই হওয়ার কথা।
তবে প্রতিপক্ষকে সহজভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ দেখছেন না অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ ২৩ বছর পর বাংলাদেশ টেস্ট খেললেও ডারউেইনে ২১ বছর পর টেস্ট খেলতে নামছে অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশের মতো অস্ট্রেলিয়ার কাছে যেন নতুন ভেন্যু ডারউইন! বাংলাদেশের সামর্থ্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কামিন্সের বার্তা, টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিপক্ষকে সহজ ভাবার সুযোগ নেই। শান্তদের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের প্রস্তুতিই নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কামিন্স বলেন, ‘আমার মনে হয় না, কখনোই সহজ কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলেছি।
তাই নিশ্চিতভাবেই তারা শক্তিশালী হবে। তাদের কয়েকজন খেলোয়াড়কে আমরা আগে খুব একটা দেখিনি। ফলে টেস্ট শুরুর আগে কিছুটা অজানাও থাকবে। তবে গত কয়েক বছরে তারা বেশ কিছু বড় জয় পেয়েছে এবং দলে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। তাই আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের আগে বাংলাদেশকে নিয়ে আলাদা করে প্রস্তুতি নিয়েছে স্বাগতিকরা। গত কয়েক মাসের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে কামিন্স বলেন, ‘গত ছয় মাসের অনেকটা সময়ই আমরা পরের ১২ মাসের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছি। মেডিকেল টিম ও কোচরা পুরো সূচি নিয়ে পরিকল্পনা করেছে। আমাদের কয়েকজন সাম্প্রতিক সাদা বলের সিরিজ খেলেনি, এমনকি আইপিএলেও তুলনামূলক কম সময় খেলেছে—যাতে প্রথম টেস্টে যতটা সম্ভব ভালো অবস্থায় আসতে পারি।
আমরা সেটা করতে পেরেছি। গত কয়েক মাস দারুণ কেটেছে।’ প্রথম টেস্ট সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়ার মনোযোগ যে পুরোপুরি বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজেই, সেটিও স্পষ্ট করেছেন কামিন্স। দীর্ঘ ১২ মাসের ব্যস্ত সূচি নিয়ে না ভেবে আপাতত একটি ম্যাচকেই গুরুত্ব দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। কামিন্স বলেন, ‘এখন শুধু খেলার পালা।
আমরা খুব বেশি সামনে তাকাই না। দল হিসেবে আমরা বর্তমানের ওপর মনোযোগ রাখতে পারি এবং সামনে কী আছে, তা নিয়ে বেশি না ভেবে এক ম্যাচ থেকে আরেক ম্যাচে এগিয়ে যেতে পারি। তাই এখন আমাদের পুরো মনোযোগ বাংলাদেশ ও এই সিরিজে।’
অস্ট্রেলিয়ার একাদশেও রয়েছে অভিজ্ঞতার ছাপ। স্টার্ক ও হ্যাজলউডের সঙ্গে লায়নও ফিরেছেন একাদশে। চোট কাটিয়ে লায়নের ফেরাকে দলের জন্য বড় পাওয়া হিসেবে দেখছেন কামিন্স।
গত ছয় মাসে লায়নের কঠোর পরিশ্রমের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। কামিন্স বলেন, ‘নাথানকে ফিরে পাওয়া দারুণ ব্যাপার। কয়েক দিন আগে আমি অ্যাডিলেড টেস্টের কিছু ভিডিও দেখছিলাম।
আমার মনে হয়, সেটি কয়েক বছরের মধ্যে তার সেরা বোলিং ছিল। তাই ঠিক তখনই চোটে পড়াটা খুবই হতাশার ছিল। তবে সে অসাধারণভাবে ফিরে এসেছে। গত ছয় মাসে সে কতটা পরিশ্রম করেছে, সেটি সবারই জানা।
এখন তাকে দারুণ ফিট মনে হচ্ছে। খুব ভালো বোলিং করছে। অধিনায়ক ও সতীর্থ হিসেবে তাকে আবার মাঠে পাওয়া অসাধারণ ব্যাপার হবে।’ অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়েও ফিরেছেন ক্যামেরন গ্রিন ও মারনাস লাবুশেন।
দীর্ঘ বিরতির পর লাবুশেনের প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট কামিন্স। তাঁর বিশ্বাস, সঠিক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে নিজের সেরা ফর্মে ফিরতে পারেন লাবুশেন।
কামিন্স বলেন, ‘আমরা কিছুদিন খেলিনি। এর মানে এই নয় যে প্রথম ম্যাচ বা প্রথম ইনিংসেই সে রান করবে। তবে সবকিছু মিলিয়ে সে সঠিক কাজগুলোই করছে। একটু দূর থেকে দেখলে আমার মনে হয়, সে নিজের সেরা ফর্মে ফিরবে।’
ডিসি/আপ্র/১২/০৮/২০২৬