চিকিৎসার জন্য আবারো লন্ডনের পথে পাড়ি জমিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেতা ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে তিনি ঢাকা ছাড়েন বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ।
এর আগে টানা প্রায় ১৫ মাস লন্ডনে চিকিৎসা শেষে গত ৩ আগস্ট দেশে ফিরেছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। দেশে ফেরার পর তিনি আগের তুলনায় ভালো আছেন বলে জানিয়েছিলেন তাঁর ছেলে জয়। তবে চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করতে আবারো তাঁকে লন্ডনে যেতে হচ্ছে।
ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে জয় বলেন, তাঁর বাবাকে আর কেমোথেরাপি দিতে হবে না। এখন চিকিৎসার পরবর্তী ধাপে ইমিউনোথেরাপি দেওয়া হবে। চিকিৎসকেরা তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়ে আশাবাদী। বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
বুধবার ঢাকা ছাড়ার আগে ইলিয়াস কাঞ্চন তাঁর দীর্ঘদিনের সামাজিক আন্দোলন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নিয়ে বিশেষ বার্তা দেন। তিনি বলেন, দেশে না থাকলেও নিরাপদ সড়কের আন্দোলন থেমে থাকবে না। বরং দেশের মানুষের কাছেই এই আন্দোলনের দায়িত্ব রেখে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর অনুপস্থিতিতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হন ইলিয়াস কাঞ্চন। তাঁকে দেখতে গুলশানের বাসায় যান বরেণ্য অভিনেতা আলমগীর, রোজিনা, আনোয়ারা, তাঁর মেয়ে মুক্তি, বাপ্পারাজ ও সম্রাটসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই।
ইলিয়াস কাঞ্চন দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার দাবিতে সামাজিক আন্দোলন করে আসছেন। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ সংগঠনটি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।
ইলিয়াস কাঞ্চন ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত। গত বছরের এপ্রিল থেকে তিনি লন্ডনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। একই বছরের আগস্টে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে দেশে ফিরলেও চিকিৎসার পরবর্তী ধাপের জন্য তাঁকে আবার লন্ডনে যেতে হলো।
দেশ ছাড়ার আগে তাঁর বার্তায় স্পষ্ট হয়েছে, ব্যক্তিগত অসুস্থতার মধ্যেও নিরাপদ সড়কের আন্দোলন নিয়ে তাঁর উদ্বেগ ও প্রত্যাশা অটুট রয়েছে। এখন তাঁর অনুপস্থিতিতে এই আন্দোলনের দায়িত্ব দেশের মানুষের হাতে তুলে দিয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে ফিরেছেন তিনি।
সানা/ডিসি/আপ্র/১২/৮/২০২৬