বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। কিন্তু সেই সম্ভাবনার পেছনে লুকিয়ে আছে শত শত সমস্যা- দারিদ্র্য, বেকারত্ব, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা, অশিক্ষা, দূষণ, যানজট, কৃষিতে আধুনিকতার অভাব, প্রযুক্তির অভাব, শহরকেন্দ্রিক উন্নয়ন ইত্যাদি। বর্তমানে কেউ যদি সমাধানের সুযোগ হিসেবে দেখে, তাহলে সে-ই হবে আসল উদ্যোক্তা। আমাদের দেশের উদ্যোক্তারা যথেষ্ট কর্মঠ এবং সফলই বলা চলে এক্ষেত্রে।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ নতুন কর্মক্ষম যুবক শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন। কিন্তু কর্মসংস্থান তৈরি হয় সর্বোচ্চ ৮-১০ লাখের জন্য। অর্থাৎ প্রতিবছর প্রায় ১০-১২ লাখ যুবক ও যুবতী কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হন। এ বেকারত্বই দেশের অন্যতম বড় সমস্যা। কিন্তু এটিই আবার উদ্যোক্তার সবচেয়ে বড় সুযোগ। কারণ একজন উদ্যোক্তা নিজে শুধু জীবিকার ব্যবস্থা করেন না, বরং অন্য দশজনের জীবিকাও তৈরি করেন।
সঠিকভাবে সহযোগিতা পেলে আরও এগিয়ে যাবেন বলে আশার আলো দেখছেন উদ্যোক্তারা। ‘আঁকাআঁকি বুটিক’-এর স্বত্বাধিকারী উদ্যোক্তা শারমীন সুলতানা হ্যাপী বলেন, ‘সত্যিকারার্থে, মাঝারি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ভালো নেই। তাদের জন্য প্রয়োজন সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে অর্থায়ন।’ সবার পক্ষে নিজেদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ হয় না, সে ক্ষেত্রে পণ্য প্রদর্শনীর সুযোগ করে দেওয়া, বিক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও উৎপাদনকারীর মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ করে দেওয়া। প্রতিটি জেলায় দক্ষ প্রশিক্ষক দিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত গাইডলাইনের ব্যবস্থা করার মতো সহোযোগিতা খুবই প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
উদ্যোক্তাদের জন্য অফেরতযোগ্য বিশেষ অনুদান দিলে খুবই উপকার হতো বলে মনে করেন আরেক উদ্যোক্তা শাকিলা জামান। তার মতে- অনেক উদ্যোক্তা তাদের কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন, অনেকে কাজও বন্ধ করে দিয়েছেন। সবার জন্য ফ্রি ট্রেনিং, মানসিক শক্তি বাড়াতে কিছু ফ্রি সেশন করাতে পারলে খুব ভালো হতো। এর পাশাপাশি যদি ব্যাংকগুলোতে বিনা সুদে লোনের ব্যবস্থা করতে পারত, তাহলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন প্ল্যানিং থাকে, সেগুলো নিয়ে কাজ করা যেত। ট্রেড লাইসেন্স, টিন রিনিউ দু’বছর বা এক বছরের জন্য মওকুফ করারও বিনীত অনুরোধ করেন তিনি সরকারের প্রতি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে শাকিলা বলেন, সরকার উদ্যোক্তাদের পণ্য কীভাবে আরও সহজে দেশ ও দেশের বাইরের মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া যায়- সেটি নিয়ে কাজ করলে ভালো হতো। কীভাবে অল্প খরচে ডেলিভারির ব্যবস্থা করা যায় এটির ব্যবস্থা করতে পারলে পণ্যেরও বিস্তার লাভ হতো।
উল্লেখ্য, নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণ ও নারীর উদ্ভাবনী শক্তিকে অর্থনৈতিক প্রগতির মূলধারায় যুক্ত করা এখন জাতীয় অগ্রাধিকার। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এ স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
আশার কথা হলো, ইতোমধ্যে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করা হয়েছে- যা উদ্ভাবনী উদ্যোগের অর্থায়ন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কেএমএএ/আপ্র/১২.৮.২০২৬