ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডি কেন্দ্র করে বিতর্কের মধ্যে নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানুকে বদলি করা হয়েছে। ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ বলার বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি সংগঠন আপত্তি জানায়। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার জানিয়েছে, এটি নিয়মিত বদলির অংশ এবং জনস্বার্থে তাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় আড়াই মাসের মাথায় বদলি হলেন বুশরা বানু। সরকারি আদেশে তাকে স্টেট আর্মড পুলিশের চতুর্থ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সরকারি আদেশে বদলির কারণ হিসেবে ‘জনস্বার্থের’ কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বুশরা বানুর একটি ভিডিও নিয়ে কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের আপত্তির পরই বদলির আদেশ আসায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের জন্য নিজের প্রস্তুতি ও আইপিএস কর্মকর্তা হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন বুশরা। ভিডিওর শুরুতে তিনি ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে দর্শকদের শুভেচ্ছা জানান। এরপর ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেনশিয়াল কোচিং একাডেমির (আরসিএ) সহযোগিতার বিষয়ে কথা বলেন।
ভিডিওতে বুশরা জানান, নিজের অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াই তার উদ্দেশ্য। এএমইউর কোচিং সেন্টারের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান সংখ্যালঘু, নারী এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতির শিক্ষার্থীদের সহায়তা করছে। আরও শিক্ষার্থীকে এসব কোচিং সেন্টারে ভর্তি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘ইনশাআল্লাহ’ আরও অনেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হয়ে দেশের সেবায় যুক্ত হবেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ডানপন্থী সংগঠনের অ্যাকাউন্ট থেকে বুশরা বানুর সমালোচনা শুরু হয়। তার বক্তব্যে ইসলামি অভিবাদন ও শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ সরকারি কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য বক্তব্যে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়টি তুলে ধরেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় একটি হিন্দু সংগঠনের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগও করা হয়।
বুশরার বদলির পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়। কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ইমরান প্রতাপগড়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে আইপিএস অ্যাসোসিয়েশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তার বক্তব্য, কর্মকর্তাটির পাশে না দাঁড়িয়ে তাকে বদলি করা হয়েছে।
উত্তর প্রদেশের কনৌজের বাসিন্দা বুশরা বানু আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন। কয়েক বছর উপসাগরীয় অঞ্চলে কাজ করার পর তিনি সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেন। ২০২১ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইপিএসে যোগ দেন।
কেএমএএ/আপ্র/১০.০৯.২০২৬