খান মুহঃ আশরাফুল আলম
রাজধানী ঢাকায় আবাসন সংকট, যানজট, শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের সমস্যা দীর্ঘদিনের। এর সঙ্গে কোনো কোনো আবাসিক এলাকায় যুক্ত হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ঘনত্ব। এক বর্গকিলোমিটারের কম জায়গায় ৩০-৪০টির বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার মতো পরিস্থিতি শুধু নগর-পরিকল্পনার দুর্বলতাকেই সামনে আনে না, বরং আবাসিক জনজীবনের স্বাভাবিক ছন্দও ব্যাহত করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটি সভ্য ও অগ্রসর সমাজের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং এলাকাভিত্তিক ধারণক্ষমতা বিবেচনা না করে প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে তার সুফলের পাশাপাশি তৈরি হয় বহুমাত্রিক ভোগান্তি। ফলে প্রশ্নটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকবে, কি থাকবে না- তা নয়; বরং কোথায়, কীভাবে এবং কত সংখ্যায় প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে শিক্ষার অধিকার ও নাগরিকের স্বাভাবিক জীবনযাপনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকবে, সেটিই মূল বিবেচ্য।
একটি আবাসিক এলাকার পরিকল্পনা করা হয় মানুষের বসবাস, চলাচল, বিনোদন, জরুরি সেবা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে। সেখানে রাস্তার প্রস্থ, পার্কিংয়ের জায়গা, ফুটপাত, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান ও জরুরি যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতার ভিত্তিতে বিবেচিত হওয়ার কথা। কিন্তু আবাসিক ভবনকে স্কুল, কলেজ, কোচিং সেন্টার কিংবা অন্যান্য শিক্ষাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হলে এলাকার ওপর চাপ দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে অল্প জায়গায় বহু প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীভূত হলে আবাসিক এলাকার মৌলিক বৈশিষ্ট্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
সকালে শিক্ষার্থীদের আগমন, দুপুরে ছুটি এবং বিকেলে বিভিন্ন শিক্ষাকার্যক্রমকে কেন্দ্র করে একই সড়কে একসঙ্গে বিপুল মানুষের সমাগম ঘটে। শিক্ষার্থী বহনকারী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, রিকশা ও অভিভাবকদের অপেক্ষমাণ যানবাহন সড়কের কার্যকর ব্যবহার কমিয়ে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে ফুটপাতের ওপর গাড়ি রাখা হয়, প্রবেশপথে তৈরি হয় জটলা, আর স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের হওয়া কিংবা কর্মস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ড, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দ্রুত প্রবেশ করতে না পারলে পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক জনসমাগমের সঙ্গে শব্দদূষণের সম্পর্কও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। মাইকে ঘোষণা, গাড়ির হর্ন, শিক্ষার্থীদের ভিড়, রাস্তার পাশে অপেক্ষমাণ অভিভাবকদের কথাবার্তা এবং যানবাহনের ইঞ্জিনের শব্দ মিলিয়ে অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় কোলাহল চলতে পারে। যারা বাসায় বসে কাজ করেন, প্রবীণ নাগরিক, অসুস্থ ব্যক্তি, নবজাতক এবং পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীদের জন্য এমন পরিবেশ বিশেষভাবে অসুবিধাজনক। তবে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমান মাত্রায় শব্দদূষণ সৃষ্টি করে- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও ঠিক হবে না। সমস্যার প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণে প্রয়োজন এলাকাভিত্তিক শব্দমাত্রা পরিমাপ এবং নির্দিষ্ট সময়ের পর্যবেক্ষণ। এর পাশাপাশি রয়েছে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন। বিরতির সময় খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল এবং অন্যান্য বর্জ্য রাস্তায় জমতে পারে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দুর্বল হলে সিটি করপোরেশনের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। আবার অপর্যাপ্ত খেলার জায়গার কারণে শিক্ষার্থীরা রাস্তা বা ভবনের প্রবেশমুখে জড়ো হলে পথচারী ও বাসিন্দাদের চলাচলও বিঘ্নিত হয়। এসব সমস্যা বিচ্ছিন্ন মনে হলেও সম্মিলিতভাবে তা আবাসিক এলাকার বাসযোগ্যতা কমিয়ে দেয়। এই পরিস্থিতির জন্য শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা বাস্তবসম্মত হবে না। ঢাকায় মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাহিদা, জমির উচ্চমূল্য, যাতায়াতের সুবিধা, অভিভাবকদের পছন্দ এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষাসেবার অসম বণ্টন—সবকিছুই প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। যেখানে শিক্ষার্থীর চাহিদা বেশি, সেখানে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বাণিজ্যিক প্রণোদনাও তৈরি হয়। অন্যদিকে, অনুমোদন প্রদানকারী সংস্থার সমন্বয়ের ঘাটতি, ভবনের ব্যবহার পরিবর্তনের ওপর দুর্বল নজরদারি এবং সড়ক ও পার্কিং সক্ষমতা বিবেচনায় না নেওয়ার ফলে সমস্যা জটিল হয়ে ওঠে।
শিক্ষা একটি মৌলিক সামাজিক প্রয়োজন। তাই আবাসিক এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকার বিষয়টিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত ধরে নেওয়া উচিত নয়। ছোট আকারের প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিশেষায়িত শিক্ষাকেন্দ্র কিংবা এলাকাভিত্তিক শিক্ষাসেবা অনেক সময় স্থানীয় মানুষের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। সমস্যা দেখা দেয় তখনই- যখন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতা, ভবনের নিরাপত্তা, যাতায়াত ব্যবস্থা ও আশপাশের সড়কের সামর্থ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকে না। অর্থাৎ সমাধান হতে হবে প্রমাণভিত্তিক, এলাকাভিত্তিক এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য। সমস্যা সমাধানের প্রথম শর্ত হলো বাস্তব পরিস্থিতির নির্ভরযোগ্য চিত্র তৈরি করা। রাজধানীর কোন এলাকায় কতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, প্রতিটিতে কতজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে, কোন সময়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সর্বাধিক, কতটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পার্কিং ও নিরাপদ ওঠানামার ব্যবস্থা রয়েছে- এসব তথ্য সমন্বিতভাবে সংগ্রহ করা জরুরি।
এক বর্গকিলোমিটারের কম এলাকায় ৩০-৪০টির বেশি প্রতিষ্ঠান থাকার যে চিত্র সামনে এসেছে, সেটিকে ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার সীমানা, প্রতিষ্ঠানের ধরন, শিক্ষার্থীসংখ্যা এবং কার্যক্রমের সময়সূচি যাচাই করতে হবে। কারণ শুধু প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দিয়ে কোনো এলাকার ওপর প্রকৃত চাপ নির্ণয় করা যায় না; প্রয়োজন জনঘনত্ব, সড়কের ধারণক্ষমতা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতার বিশ্লেষণ। এ কাজের দায়িত্বে থাকতে পারে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড। সমন্বিত ডিজিটাল তালিকা তৈরি করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, ভবনের ব্যবহার, শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং যানবাহন ব্যবস্থাপনার তথ্য সংরক্ষণ করা যেতে পারে। নিয়মিত হালনাগাদ করা এই তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত চাপের এলাকাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
প্রথম পর্যায়ে অর্থাৎ তিন মাসের মধ্যে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর যৌথ উদ্যোগে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাগুলোর জরিপ সম্পন্ন করা উচিত। জরিপে প্রতিষ্ঠানসংখ্যার পাশাপাশি সকাল, দুপুর ও বিকেলের যানবাহন চলাচল, শব্দমাত্রা, ফুটপাতের অবস্থা, পার্কিং সংকট এবং জরুরি যানবাহনের প্রবেশপথ পর্যালোচনা করতে হবে। এলাকাবাসী, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বাড়ির মালিকদের মতামত নেওয়াও জরুরি। এতে প্রশাসনিক তথ্যের সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটবে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে, পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে, প্রতিটি এলাকার ধারণক্ষমতা অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। নতুন প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের ক্ষেত্রে শুধু ভবনের বৈধতা নয়, আশপাশের সড়ক, নিরাপদ প্রবেশপথ, অগ্নিনিরাপত্তা, শিক্ষার্থীসংখ্যা ও যানবাহন ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বিবেচনা করা প্রয়োজন। যেখানে ধারণক্ষমতা ইতিমধ্যে অতিক্রান্ত, সেখানে নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপনের অনুমোদন কঠোরভাবে পর্যালোচনা করা যেতে পারে। তবে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা স্থানান্তরের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আইনগত অবস্থান, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ এবং বিকল্প শিক্ষাসুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয় পর্যায়ে, ছয় থেকে বারো মাসের মধ্যে, যানজট ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা উচিত। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী ওঠানামার ব্যবস্থা, নিরাপদ অপেক্ষাস্থল এবং সম্ভব হলে গাড়ি রাখার জায়গা নিশ্চিত করতে হবে। অভিভাবকদের রাস্তার ওপর দীর্ঘ সময় গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা নিরুৎসাহিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ছুটির সময় পর্যায়ক্রমে নির্ধারণ, স্কুলবাসের নির্দিষ্ট রুট, গাড়ির প্রবেশ ও বের হওয়ার পৃথক ব্যবস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবী ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করা যেতে পারে। তবে শুধু ছুটির সময় পরিবর্তন করলেই হবে না; বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সময়সূচি সমন্বয় করে তার ফলাফল পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
চতুর্থ পর্যায়ে, দীর্ঘমেয়াদে, ঢাকার বিভিন্ন অংশে মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। শুধু একটি এলাকায় নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপনে বাধা দিলেই শিক্ষার্থীদের চাহিদা কমবে না; বরং বিকল্প ব্যবস্থা না থাকলে দূরবর্তী এলাকায় যাতায়াতের চাপ বাড়তে পারে। তাই পরিকল্পিত নতুন আবাসন এলাকা ও শিক্ষাসুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত বিদ্যালয়, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিদ্যমান সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো গেলে কয়েকটি এলাকায় অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে।
পরিকল্পনা গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়; এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি স্পষ্ট আচরণবিধি থাকা উচিত, যেখানে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানবাহন পার্কিং, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ওঠানামা এবং জরুরি নির্গমনপথের নিয়ম উল্লেখ থাকবে। নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রথমে সংশোধনের সময়সীমা, পরে আইনসম্মত জরিমানা বা প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে আবাসিক ভবনের ব্যবহার পরিবর্তন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনসংক্রান্ত বিধিবিধান নিয়মিত পরিদর্শনের আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে নাগরিক অভিযোগ ব্যবস্থাও কার্যকর করা প্রয়োজন। অনলাইনে বা স্থানীয় ওয়ার্ড কার্যালয়ের মাধ্যমে বাসিন্দারা যানজট, অতিরিক্ত শব্দ, ফুটপাত দখল কিংবা বর্জ্য সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগের নিষ্পত্তি কত দিনে হচ্ছে, কতটি প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে চলছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় যানজট বা শব্দদূষণ কমছে কি না- এসব সূচক নিয়মিত প্রকাশ করা যেতে পারে। এতে প্রশাসনের জবাবদিহি বাড়বে এবং নীতিমালার কার্যকারিতা যাচাই করা সহজ হবে।
আবাসিক এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ঘনত্বকে কেবল যানজটের সমস্যা হিসেবে দেখলে এর পূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়। এটি নগর-পরিকল্পনা, শিক্ষাসেবার বণ্টন, ভবন ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক অধিকার- সবকিছুর সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নির্বিচার ব্যবস্থা গ্রহণ যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি শিক্ষার প্রয়োজনকে অজুহাত করে আবাসিক জনজীবনের দুর্ভোগ উপেক্ষা করাও সমীচীন নয়। একটি বাসযোগ্য রাজধানী গড়তে হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান ও ধারণক্ষমতা নির্ধারণে সুস্পষ্ট নীতি, সংস্থাগুলোর সমন্বয়, নিয়মিত তদারকি এবং বিকল্প শিক্ষাসুবিধার ব্যবস্থা করতে হবে। পরিকল্পনার অগ্রগতি পরিমাপ করতে যানজটের স্থায়িত্ব, শব্দমাত্রা, ফুটপাতের ব্যবহারযোগ্যতা, জরুরি যানবাহনের প্রবেশাধিকার এবং বাসিন্দাদের সন্তুষ্টিকে সূচক হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। নির্দিষ্ট সময় পরপর এসব সূচকের ভিত্তিতে পরিকল্পনা সংশোধন করাও জরুরি।
মনে রাখতে হবে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু শিক্ষার্থী তৈরির কেন্দ্র নয়; এটি বৃহত্তর সমাজের অংশ। তার কার্যক্রম যেন আশপাশের মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ না করে, আবার আবাসিক এলাকার সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরাও যেন মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়- এটিই হওয়া উচিত নগর ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য। রাজধানীকে বাসযোগ্য রাখতে হলে আবাসিক এলাকার ধারণক্ষমতা ও মানুষের জীবনমানকে নগর উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে। শিক্ষা ও আবাসন- দুটিই নাগরিক জীবনের অপরিহার্য উপাদান। সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে এ দুটির মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করাই এখন সময়ের দাবি।
লেখক: সাংবাদিক ও বিশ্লেষণ
(মতামত লেখকের সম্পূর্ণ নিজস্ব)
কেএমএএ/আপ্র/২৬.১০.২৬