গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

শিশুর আশ্রয়স্থল পরিচিত মানুষের কাছেই বেশি নির্যাতনের শিকার

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:১২ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২২:৪০ এএম ২০২৬
শিশুর আশ্রয়স্থল পরিচিত মানুষের কাছেই বেশি নির্যাতনের শিকার
ছবি

ছবি সংগৃহীত

শিশুর নিরাপদ শৈশবের সবচেয়ে বড় আশ্রয় হওয়ার কথা পরিবার ও পরিচিত পরিসর। অথচ ওই পরিচিত গণ্ডির মধ্যেই যখন শিশুর জন্য তৈরি হয় যৌন নির্যাতনের ঝুঁকি, তখন শুধু একটি অপরাধের ঘটনা নয়; ভেঙে পড়ে নিরাপত্তা ও বিশ্বাসের পুরো কাঠামো।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ১ হাজার ৪৮৫টি মামলা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৯৯৮টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মামলা বেড়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ। ২০২৪ সালের প্রথম সাত মাসে মামলা হয়েছিল ৭৫১টি। সে হিসাবে দুই বছরের ব্যবধানে শিশুধর্ষণের মামলা বেড়েছে প্রায় ৯৮ শতাংশ। একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মোট ১২ হাজার ৪৪৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে ৪ হাজার ২৫টি। মামলার সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি উদ্বেগের আরেকটি দিক হলো, অনেক সময় এসব অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুর কাছের পরিচিত ব্যক্তি হন।

পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পুলিশের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, শিশু ধর্ষণের ঘটনাগুলোর একটি বড় অংশ পরিচিত ব্যক্তি, স্বজন, প্রতিবেশী বা বিশ্বাসভাজন ব্যক্তিদের মাধ্যমে হয়। সামাজিক কারণ, ভয় ও বিভিন্ন চাপের কারণে অনেক পরিবার ঘটনা গোপন রাখার চেষ্টা করে বা অভিযোগ করতে বিলম্ব করে। এতে তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়।

২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ৩০৮টি শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী শিশুর পরিচিত- যাদের মধ্যে প্রতিবেশী, স্বজন, শিক্ষক ও পরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাও রয়েছেন। এসব তথ্য দেখিয়ে দেয়, শিশুকে শুধু অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে সাবধান করাই যথেষ্ট নয়; বরং পরিচিত মানুষের আচরণ নিয়েও বয়সোপযোগী সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। শিশুরা অনেক সময় বুঝতেই পারে না কোন আচরণ নিরাপদ আর কোনটি অনিরাপদ। আবার ভয় দেখানো, উপহার দেওয়া, আদর-স্নেহের সুযোগ নেওয়া কিংবা গোপন রাখার চাপ দিয়ে অপরাধীরা শিশুকে নীরব করে রাখতে পারে।

এক সাক্ষাৎকারে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. জেবুন নাহার বলেছেন, কোনো শিশুর আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিলেই সেটিকে নির্যাতনের প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কিন্তু অতিরিক্ত ভয়, নির্দিষ্ট কারও কাছে যেতে অনীহা, অস্বাভাবিক চুপচাপ হয়ে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা বা আচরণে বড় পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। শিশুর সঙ্গে বকাঝকা বা ভয় দেখিয়ে নয়, বরং নিরাপদ পরিবেশে কথা বলে তার উদ্বেগের জায়গাটি বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

পরিচিত মানুষের ওপর শিশুর স্বাভাবিক আস্থা অনেক সময় অপরাধীর সুযোগ তৈরি করে। আদর, উপহার, সাহায্য বা বিশ্বাসের সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে শিশুকে একা করার চেষ্টা করা হতে পারে। আবার ভয় দেখিয়ে বা ঘটনা কাউকে না বলার জন্য চাপ দিয়েও শিশুকে নীরব রাখা হয়। তাই শুধু অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা নয়, শিশুকে নিজের শরীরের ব্যক্তিগত সীমা, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ এবং অস্বস্তিকর আচরণ সম্পর্কে বয়সোপযোগী ধারণা দেওয়াও জরুরি। শিশু ধর্ষণের ঘটনা যে শুধু বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং বৃহত্তর সামাজিক উদ্বেগের বিষয়- সেটিও উঠে এসেছে অপরাধতত্ত্ব ও পুলিশবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞের বক্তব্যে।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধতত্ত্ব ও পুলিশবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুক তার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, শিশু ধর্ষণের ঘটনা এখন নাগরিক জীবনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার পর্যায়ে চলে গেছে। ধর্ষণের পরিণতি সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিতে মামলাগুলো যথাযথভাবে পরিচালনার মাধ্যমে ধর্ষকের সাজা নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কারণ শিশুর জন্য নিরাপদ সমাজ তখনই তৈরি হবে, যখন তাকে শুধু ‘অপরিচিতের ভয়’ শেখানো হবে না, বরং নিজের শরীর, ব্যক্তিগত সীমা, নিরাপদ-অনিরাপদ স্পর্শ এবং বিপদের কথা বলার অধিকার সম্পর্কেও সচেতন করা হবে। অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে সরে আসা এবং কোনো ঘটনা ঘটলে বিশ্বাসযোগ্য বড় কাউকে জানাতে পারার সাহস তৈরি করতে হবে।

কেএমএএ/আপ্র/১০.০৯.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

নারী-শিশুর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারী-শিশুর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের

নারী নিজের ঘরেও সহিংসতার শিকার হলে তিনি কোথায় নিরাপদ নন। নিরাপত্তা শুধু রাস্তাঘাট, কর্মক্ষেত্র বা গণ...

‘আসসালামু আলাইকুম’, ‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় সমালোচিত নারী আইপিএস
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘আসসালামু আলাইকুম’, ‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় সমালোচিত নারী আইপিএস

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডি কেন্দ্র করে বিতর্কের মধ্যে নারী আইপিএস...

কিশোর-কিশোরীকে শেখাতে হবে ভালো-খারাপ বন্ধুর পার্থক্য
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কিশোর-কিশোরীকে শেখাতে হবে ভালো-খারাপ বন্ধুর পার্থক্য

উঠতি বয়স এমন একটি সময়- যখন সন্তান ধীরে ধীরে পরিবার থেকে নিজের আলাদা একটি জগৎ তৈরি করতে শুরু করে। এই...

কোনো শিশুই শিক্ষার বাইরে থাকবে না: শিশুবিষয়ক মন্ত্রী
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কোনো শিশুই শিক্ষার বাইরে থাকবে না: শিশুবিষয়ক মন্ত্রী

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু হোক কিংবা স্বাভাবিক শিশু, কোনো শিশুকেই শিক্ষার বাইরে রাখা হবে না বলে জানিয়ে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বাস ভাড়া বাড়লো কিলোমিটারে ১৭ পয়সা, প্রজ্ঞাপনের আগেই বাড়তি আদায়

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির আগেই রাজধানীসহ বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন পরিবহনকর্মীদের কেউ কেউ। কোথাও ১০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা, কোথাও প্রতি স্টপেজে পাঁচ টাকা করে বেশি নেওয়া হচ্ছে। দূরপাল্লার বাসেও গন্তব্যভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অথচ সরকার ও সড়ক পরিবহন মালিকপক্ষ প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন বাস ভাড়ার এই নৈরাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে?

মোট ভোট: ০ | শেষ আপডেট: 21 ঘন্টা আগে