বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের জানান দিল স্পেন। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের শেষ দিকে বদলি হিসেবে নেমে মিকেল মেরিনোর দুর্দান্ত ফিনিশিং স্পেনকে এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত জয়।
লস অ্যাঞ্জেলসের সোফি স্টেডিয়ামে শনিবার (১১ জুলাই) রাতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কোয়ার্টার-ফাইনালে শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় স্পেন। তবে শেষ পর্যন্ত বেলজিয়ামও লড়াইয়ে ফিরে এসে স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণভাগে প্রথমবারের মতো বড় পরীক্ষা নেয়।
ম্যাচের ৩০তম মিনিটে এগিয়ে যায় স্পেন। পেদ্রির পরিবর্তে শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া ফাবিয়ান রুইস কোচের আস্থার যথার্থ প্রতিদান দেন। দানি ওলমোর জোরালো শট বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া ঠেকিয়ে দিলেও বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ফিরতি বল পেয়ে নিখুঁত শটে তা জালে পাঠান রুইস। যদিও বলটি বেলজিয়ামের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোল হয়।
গোল হজমের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বেলজিয়াম। ম্যাচের ৪১তম মিনিটে দারুণ এক পাল্টা আক্রমণ থেকে সমতা ফেরায় তারা। চার্লস ডি কেটেলারার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে পরাস্ত হন স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন। এই গোলেই শেষ হয় স্পেনের চলতি বিশ্বকাপের রক্ষণভাগের অক্ষত থাকার রেকর্ড।
প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। স্পেন বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও বেলজিয়ামের সংগঠিত রক্ষণ ও পাল্টা আক্রমণ তাদের স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি।
ম্যাচের শেষ ভাগে বড় ধাক্কা খায় বেলজিয়াম। চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তাঁর জায়গায় নামেন তরুণ গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্স। তবে বদলি গোলরক্ষকের সামনে খুব বেশি সময় ছিল না নিজেকে প্রমাণ করার।
ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে সেই সুযোগ কাজে লাগায় স্পেন। বেলজিয়ামের ডি-বক্সের ভেতরে তৈরি হওয়া জটলার মধ্যে বল পেয়ে যান মিকেল মেরিনো। ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত শটে বল পাঠিয়ে দেন জালে। শেষ পর্যন্ত সেই গোলই হয়ে ওঠে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী মুহূর্ত।
মেরিনো যেন আবারও স্পেনের ‘সুপার সাব’ হিসেবে নিজের পরিচয় দিলেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাঠে নেমে গোল করার অভ্যাস এর আগেও তাঁকে আলোচনায় এনেছে। এবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালের মতো বড় মঞ্চেও দলের ত্রাতা হয়ে উঠলেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, স্পেনের এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জয়ের গল্প নয়; এটি তাদের ধারাবাহিকতা, কৌশলগত পরিপক্বতা এবং চাপের মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতার প্রমাণ। বেলজিয়াম লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত স্পেনের অভিজ্ঞতা ও আক্রমণভাগের ধার তাদের এগিয়ে রাখে।
এদিকে সেমিফাইনালে উঠে স্পেন এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণের পথে। তবে সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। কারণ বিশ্বকাপের শেষ চার মানেই প্রতিটি ম্যাচে সামান্য ভুলও বিদায়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
স্পেন ২–১ বেলজিয়াম
গোল:
স্পেন: ফাবিয়ান রুইস (৩০ মিনিট), মিকেল মেরিনো (৮৮ মিনিট)
বেলজিয়াম: চার্লস ডি কেটেলারা (৪১ মিনিট)
সানা/আপ্র/১১/৭/২০২৬