প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করে হতাশ করেছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে বিরতির পর সেই আক্ষেপ মুছে দিয়ে জ্বলে ওঠেন ফ্রান্স অধিনায়ক। এক দুর্দান্ত গোলে দলকে এগিয়ে দেওয়ার পর আরেকটি গোলে রাখেন সরাসরি অবদান। তার অনুপ্রেরণাতেই ৬ মিনিটের ঝড়ে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সবার আগে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলের দখল, আক্রমণ ও সুযোগ সৃষ্টিতে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল দিদিয়ের দেশমের দলের। কিন্তু প্রথমার্ধে বারবার বাধা হয়ে দাঁড়ান মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় ফরাসিরা।
ম্যাচের ২৫তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্স। নুসাইর মাজরাউইয়ের ফাউলে পেনাল্টি পায় তারা। তবে স্পটকিক থেকে এমবাপ্পের শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন বুনু। এরপর দেজিরে দুয়ে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসের একের পর এক আক্রমণেও গোলের দেখা মেলেনি। মরক্কোর শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।
বিরতির পর অবশ্য বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৬০তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন এমবাপ্পে। পেনাল্টি মিসের হতাশা মুহূর্তেই ভুলিয়ে দিয়ে ফ্রান্সকে কাঙ্ক্ষিত লিড এনে দেন তিনি।
প্রথম গোলের ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। এবারও আক্রমণের সূচনা করেন এমবাপ্পে। তার বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে বল পেয়ে নিচু শটে বুনুকে পরাস্ত করেন উসমান দেম্বেলে। ৬০ থেকে ৬৬ মিনিট—এই ছয় মিনিটের ঝড়েই মরক্কোর স্বপ্নভঙ্গ নিশ্চিত হয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে মরক্কোকে নকআউট পর্ব থেকে বিদায় করার পাশাপাশি সবার আগে শেষ চার নিশ্চিত করে ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের নায়ক এমবাপ্পে এই গোলের মাধ্যমে আরও একটি অনন্য কীর্তি গড়েন। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে তার অষ্টম গোল। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন দুটি গোল। অর্থাৎ এবারের আসরে ইতোমধ্যে ১০টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি। এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপেও আট গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন। ফলে ১৯৬৬ সালের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপ আসরে অন্তত ১০টি করে গোলে সরাসরি অবদান রাখার বিরল রেকর্ড গড়লেন ফ্রান্সের অধিনায়ক।
অন্যদিকে, টুর্নামেন্টজুড়ে লড়াকু ফুটবল উপহার দেওয়া মরক্কোর স্বপ্নযাত্রার শেষ হলো কোয়ার্টার ফাইনালেই। গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর অসাধারণ নৈপুণ্য অনেকক্ষণ দলকে লড়াইয়ে রাখলেও শেষ পর্যন্ত ফরাসি আক্রমণের সামনে টিকতে পারেনি আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
সানা/আপ্র/১০/৭/২০২৬