প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করে হতাশ করেছিলেন সমর্থকদের। গোলশূন্য প্রথম ৪৫ মিনিটে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় সুযোগটিও নষ্ট হয়েছিল তার পা থেকেই। কিন্তু বিরতির পর বদলে গেল দৃশ্যপট। মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। সেই গোলেই এগিয়ে যায় ফ্রান্স, নিশ্চিত হয় সেমিফাইনালের পথ। আর ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নতুন এক মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন ফরাসি অধিনায়ক।
বস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণে আধিপত্য ছিল ফ্রান্সের। তবে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি দিদিয়ের দেশমের দল। ২৫তম মিনিটে এমবাপ্পে পেনাল্টি পেলেও তার শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বুনু। ফলে বিরতিতে গোলশূন্য সমতায় মাঠ ছাড়ে দুই দল।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আর ভুল করেননি এমবাপ্পে। ৬০তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত বাঁকানো শটে মরক্কোর জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। পেনাল্টি মিসের হতাশা এক মুহূর্তেই উধাও হয়ে যায়। ছয় মিনিট পর উসমান দেম্বেলের গোল ফ্রান্সের জয় আরও নিশ্চিত করে। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে মরক্কোকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় ফ্রান্স।
এই গোলটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের অষ্টম। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন দুটি গোল। অর্থাৎ এবারের আসরে ইতোমধ্যে ১০টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি। এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপেও করেছিলেন আট গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট। ফলে ১৯৬৬ সালের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা দুই ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরে অন্তত ১০টি করে গোলে সরাসরি অবদান রাখার বিরল কীর্তি গড়লেন তিনি।
বিশ্বকাপে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য আগেই ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারদের কাতারে জায়গা করে নিয়েছেন এমবাপ্পে। মরক্কোর বিপক্ষে এই গোলের মাধ্যমে সেই অবস্থান আরও শক্ত হলো। পেনাল্টি মিসের হতাশা থেকে ইতিহাস গড়ার গল্প—মাত্র ৩৫ মিনিটের ব্যবধানে যেন আরেকবার নিজের বড় মঞ্চের সামর্থ্যই প্রমাণ করলেন ফ্রান্সের এই অধিনায়ক।
সানা/আপ্র/১০/৭/২০২৬