জন্মদিন মানেই অনেকের কাছে পরিবার-পরিজন, বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ-উৎসব, কেক কাটা আর খোলা আকাশের নিচে সময় কাটানো। কিন্তু লিওনেল মেসির জীবনে সেই চিত্রটা প্রায়ই ভিন্ন। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ১৮ বছর বয়স থেকে যাত্রা শুরু করা এই মহাতারকা বারবারই নিজের জন্মদিন কাটিয়েছেন জাতীয় দলের দায়িত্ব ও ব্যস্ততার মাঝেই।
২০০৫ সালে বয়সভিত্তিক দলে প্রথমবার জন্মদিন কাটান মেসি। নেদারল্যান্ডসে অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সময় তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দেন। সেখান থেকেই শুরু আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে জন্মদিন কাটানোর দীর্ঘ অধ্যায়।
এরপর ২০০৬ বিশ্বকাপে জার্মানিতে পরিবার থেকে দূরে জন্মদিন কাটাতে হয় তাকে। ২০০৭ কোপা আমেরিকায় ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচের দিনে জন্মদিন পড়ে এবং সেদিনই গোল করে উদযাপন করেন তিনি। তবে সেই আসরেই প্রথম বড় টুর্নামেন্ট ফাইনালে হার দেখতে হয় মেসিকে।
পরবর্তী কয়েক বছরে কিছু সময় জন্মদিন দলের বাইরে কাটাতে পারলেও ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ থেকে আবারো শুরু হয় জাতীয় দলের সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে জন্মদিন কাটে বিশ্বকাপের ব্যস্ততার মধ্যে, যেখানে তিনি সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান, কিন্তু শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয় না।
২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরাজয়ের হতাশার মধ্যেই জন্মদিন কাটাতে হয় তাকে। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার সঙ্গে জন্মদিন কাটলেও শেষ ষোলোতেই বিদায় নেয় দল।
২০১৯ কোপা আমেরিকায় আবারো জাতীয় দলের সঙ্গে জন্মদিন আসে তার, তবে সেমিফাইনালে ব্রাজিলের কাছে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। ২০২১ সালে কোভিড-পরিস্থিতির মধ্যেও সতীর্থরা মাঝরাতে হোটেল কক্ষে কেক ও উপহার দিয়ে তাকে চমকে দেন। সেই আসরেই অবশেষে আর্জেন্টিনা জেতে কোপা আমেরিকা শিরোপা।
২০২৪ কোপা আমেরিকাতেও দলের সঙ্গে ৩৭তম জন্মদিন কাটান মেসি। সতীর্থদের সঙ্গে হোটেল রুমে কেক কেটে উদযাপন হয় সেই মুহূর্ত।
আর ২০২৬ সালের ২৪ জুন, আর্জেন্টিনা দল আবারো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অর্জনের তালিকার পাশে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানায়। ১৮ থেকে ৩৯-দীর্ঘ এই পথচলায় মেসির ১৩টি জন্মদিন কেটেছে আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গেই, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এক অনন্য অধ্যায় হয়ে আছে।
সানা/আপ্র/২৪/৬/২০২৬