মাহাবুব রহমান বিপ্লব, বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: ভুল পরিকল্পনা ও স্থান নির্বাচনের কারণে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় নির্মিত একমাত্র ফুটবল স্টেডিয়ামটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। উপজেলা শহর থেকে দূরে এবং যাতায়াতের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই ক্রীড়া অবকাঠামো স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এরশাদ সরকারের আমলে উপজেলা শহর থেকে বেশ দূরে মধুপুর ইউনিয়নের নাওপাড়া রাজারামপুর গ্রামে কয়েক একর জমি অধিগ্রহণ করে স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা হয়। তবে সেখানে যেতে হলে যমুনেশ্বরী নদীর নাওপাড়া ঘাট পার হতে হয়। ঘাটটিতে কোনো সেতু না থাকায় বর্ষা ও বন্যার সময় নদী পারাপার আরো কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যাতায়াতের এমন দুর্ভোগের কারণে ফুটবল দল, খেলোয়াড় ও দর্শকদের কাছে ধীরে ধীরে স্টেডিয়ামটির আকর্ষণ কমে যায়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি কার্যত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করেন, উপযুক্ত যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত না করে এমন স্থানে স্টেডিয়াম নির্মাণ ছিল ভুল পরিকল্পনার ফল এবং এতে সরকারি অর্থের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি।
এদিকে বদরগঞ্জ উপজেলা শহরের ভেতরে খেলাধুলার জন্য উপযুক্ত মাঠ না থাকায় স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। একসময় সক্রিয় থাকা বিভিন্ন সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের অনেকগুলোর কার্যক্রমও এখন অনেকটাই কমে গেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন মাঠের অভাবে এসব সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ বা সীমিত থাকার সুযোগে কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের কার্যালয় ও জমি প্রভাবশালী মহলের দখলে চলে গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, পর্যাপ্ত খেলাধুলার সুযোগ না থাকায় তরুণ ও যুবকদের একটি অংশের মধ্যে মাদকাসক্তির ঝুঁকিও বাড়ছে। তাদের মতে, মাঠ ও ক্রীড়া অবকাঠামো শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এ অবস্থায় বদরগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণ ফেরাতে উপজেলা শহরের ভেতরে নতুন স্টেডিয়াম বা উপযুক্ত ক্রীড়া মাঠ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে বেদখল হয়ে থাকা সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্পত্তি চিহ্নিত করে তা উদ্ধারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, স্থানীয় ক্রীড়া ও সামাজিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থান নির্বাচন ও যোগাযোগব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে, যাতে সরকারি অর্থ ব্যয়ের সুফল সরাসরি স্থানীয় জনগণ পায়।
সানা/আপ্র/৯/৮/২০২৬