আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর ভুয়া খবর প্রচার করায় এক টিভি উপস্থাপকসহ একাধিক সংবাদকর্মী চাকরি হারিয়েছেন। একই সঙ্গে মেসি পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন সংশ্লিষ্ট উপস্থাপক।
আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘লুসু টিভি’র একটি সরাসরি সম্প্রচারে উপস্থাপক ফ্লোরেন্সিয়া পেনা দাবি করেন, হোর্হে মেসি মারা গেছেন এবং উত্তর আমেরিকায় চলমান বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি আর কোনো ম্যাচ খেলবেন না।
সম্প্রচারের সময় তিনি বলেন, “আমি কোনো দুঃসংবাদ দিতে চাই না, কিন্তু মেসির বাবা এইমাত্র মারা গেছেন। বিশ্বকাপের ঠিক মাঝখানে।”
তবে কিছুক্ষণ পর প্রযোজকদের কাছ থেকে সতর্কবার্তা পেয়ে তিনি জানান, তথ্যটি যাচাই করা হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে ভুয়া খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার মেসি পরিবার এক বিবৃতিতে জানায়, হোর্হে মেসি শারীরিক সমস্যার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হচ্ছে।
এ ঘটনার জেরে ফ্লোরেন্সিয়া পেনা পদত্যাগ করেন এবং মেসি পরিবারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে সরাসরি সম্প্রচারের সময় ইয়ারপিসের মাধ্যমে ভুল তথ্য সরবরাহের জন্য তিনি প্রযোজনা দলকে দায়ী করেন।
লুসু টিভি কর্তৃপক্ষও এক বিবৃতিতে ক্ষমা চেয়ে জানিয়েছে, ঘটনার জন্য দায়ীদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আর্জেন্টিনার বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পরপরই প্রায় ১০টি ব্র্যান্ড চ্যানেলটির সঙ্গে তাদের স্পনসরশিপ চুক্তি বাতিল করেছে।
মেসি পরিবারের বিবৃতিতেও ভুয়া সংবাদ প্রচারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, “সাম্প্রতিক সময়ে প্রচারিত বিভিন্ন প্রতিবেদন, গুজব ও জল্পনা-কল্পনার প্রেক্ষিতে একটি একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়কে কিছু ব্যক্তি যেভাবে সংবেদনশীলতা, সম্মান ও বিবেকবোধের অভাব নিয়ে উপস্থাপন করেছেন, তাতে পরিবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।”
পরিবার আরও জানায়, হোর্হের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য কেবল পরিবারের নিকটতম সদস্যদের কাছেই রয়েছে। তাই পরিবার বা তাদের আনুষ্ঠানিক মাধ্যম থেকে প্রকাশিত তথ্য ছাড়া অন্য কোনো প্রতিবেদন, বিবৃতি বা তথ্যকে সত্য বলে বিবেচনা না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, “এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমরা সবার কাছে দায়িত্বশীলতা, বিচক্ষণতা ও সহানুভূতি প্রত্যাশা করি।”
সানা/আপ্র/২০/৬/২০২৬