বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই দেখা যায় নতুন নিয়মের কড়াকড়ি। সেসব নিয়ম নিয়ে ঝড় উঠে চায়ের কাপে। জানলে অবাক হবেন যে, ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ মাঠে গড়ালেও লাল আর হলুদ কার্ড দেখানোর নিয়মটা চালু হয় ১৯৭০ বিশ্বকাপে! এসবের ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ব্যবহৃত হয় ভার তথা ভিডিও অ্যাসিসট্যান্ট রেফারি। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও দেখা গেছে যোগ করা সময় বা স্টপেজ টাইমের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপেও সেসব নিয়মের নতুনত্ব দেখা যাচ্ছে। এবার দেখা যাক কী সেই নতুন নিয়ম-
১. বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন বিরতি
গরম আবহাওয়ায় খেলোয়াড়দের পানি পানের সুযোগ দিতে ম্যাচে বিরতি আগেও দেখা গেছে। তবে এবার প্রথমবারের মতো প্রতিটি বিশ্বকাপ ম্যাচে বাধ্যতামূলকভাবে হাইড্রেশন ব্রেক বা পানি পানের বিরতি চালু করছে ফিফা।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি অর্ধের মাঝামাঝি তিন মিনিটের বিরতি থাকবে। আবহাওয়া ঠান্ডা হোক বা স্টেডিয়ামের ছাদ বন্ধ থাকুক—সব ম্যাচেই এই বিরতি দিতে হবে।
২. ভার এখন কর্নার ও দ্বিতীয় হলুদ কার্ডও দেখবে
শুরুতে ভার তথা ভিডিও অ্যাসিসট্যান্ট রেফারি ব্যবহৃত হতো গোল, পেনাল্টি, সরাসরি লাল কার্ড এবং ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার মতো স্পষ্ট ভুল সংশোধনে। তবে চলতি বছর ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড ভার- এর ক্ষমতা আরও বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে।
এখন থেকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের ফলে লাল কার্ড হলে সেটিও ভারের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা যাবে। একইভাবে ভুলভাবে কর্নার দেওয়া হলেও ভার হস্তক্ষেপ করতে পারবে, যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় এবং খেলায় বিলম্ব না ঘটে।
৩. গোলকিক ও বদলিতে কাউন্টডাউন
সময় নষ্ট কিংবা অপচয় ঠেকাতে গোলকিক, থ্রো-ইন ও খেলোয়াড় বদলির সময় কাউন্টডাউন চালু করা হচ্ছে।
এক্ষেত্রে কোনো খেলোয়াড় নির্ধারিত সময়ের বেশি নিলে বলের দখল তখন প্রতিপক্ষ পেয়ে যাবে। অর্থাৎ, গোলকিক কর্নারে পরিণত হতে পারে কিংবা থ্রো-ইন প্রতিপক্ষের হাতে চলে যেতে পারে।
এর আগে গোলরক্ষকদের জন্য বল হাতে আট সেকেন্ডের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সময় বেশি নিলে প্রতিপক্ষ কর্নার পেতো।
ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড জানিয়েছে, ‘রেফারি যদি মনে করেন কোনো খেলোয়াড় ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্ট করছে, তাহলে পাঁচ সেকেন্ডের ভিজ্যুয়াল কাউন্টডাউন শুরু হবে।’
এছাড়া বদলি হওয়া খেলোয়াড়কে নম্বর দেখানোর পর ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ ছাড়তে হবে। না হলে তিনি মাঠ ছাড়লেও বদলি খেলোয়াড় অন্তত এক মিনিট খেলা চলার আগে মাঠে নামতে পারবেন না।
ইনজুরির চিকিৎসা নেওয়া খেলোয়াড়দেরও মাঠে ফেরার আগে অন্তত এক মিনিট বাইরে থাকতে হবে।
৪. মুখ ঢেকে কথা বললে লাল কার্ড
ফিফা গত মাসে জানিয়েছে, প্রতিপক্ষের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ানো অব্স্থাতে মুখ ঢেকে কথা বললে খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো যেতে পারে।
ফেব্রুয়ারিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক ম্যাচে বেনফিকার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি মুখ ঢেকে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে এবং তিনি সমকামীবিদ্বেষী আচরণের দায়ে ছয় ম্যাচ নিষিদ্ধ হন।
এছাড়া রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাঠ ছেড়ে গেলে খেলোয়াড়দেরও লাল কার্ড দেখানো যাবে। ফিফা জানিয়েছে, ‘যে দল ম্যাচ বর্জন করবে, তারা নীতিগতভাবে ম্যাচটি হেরে যাবে।’
জানুয়ারিতে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে মরক্কোর পেনাল্টির প্রতিবাদে সেনেগালের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। পরে তারা ফিরে এসে ম্যাচ জিতলেও আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন নিয়ম ভঙ্গের দায়ে তাদের শিরোপা কেড়ে নেয়।
সানা/আপ্র/২৪/৫/২০২৬