দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরো ১৩ শিশু। ফলে ভাইরাসজনিত হাম এবং এ রোগের উপসর্গে মৃত শিশুর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১২ জনে।
শনিবার (২৩ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিন অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪২৬ জন। সব মিলিয়ে আড়াই মাসে ৫১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর পর রাজশাহী বিভাগে মারা গেছে ৭৯ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪৯ জন।
এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৪২ জন, ময়মনসিংহে ৩৫ জন, বরিশালে ৩১ জন, খুলনায় ২১ জন এবং রংপুর বিভাগে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে ১ হাজার ৯৬৭ জন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৮৭৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ২৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগের হাসপাতালগুলোতে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ১৫ জন ভর্তি হয়েছে রংপুর বিভাগের হাসপাতালে।
সবশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৫০৭ জনে। আর নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হয়েছে ৮ হাজার ৪৯৪ জন।
ডাক্তার-নার্সদের ঈদের ছুটি বাতিল: হামের রোগী ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও নার্সদের ঈদে ছুটি হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
যেসব হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুরা ভর্তি আছে, সে হাসপাতালে ঈদের ছুটির মধ্যে চিকিৎসকরা থাকবেন কি না, নাকি ছুটিতে চলে যাবেন- এ প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, থাকবেন ইনশাল্লাহ। আমরা অলরেডি সার্কুলার দিয়েছি। ধন্যবাদ আপনাকে এটা বলাতে, এটাও আপনারা আশ্বস্ত হতে পারেন, আমরা সতর্ক করছি। হামের রোগী এবং জরুরি স্বাস্থ্য সেবাতে কোনো ডাক্তারের, নার্সের ছুটি হবে না। থাকতে হবে।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটা কথা আপনাদেরকে বলি। ভ্যাকসিন নিলেই যে ১০০ পার্সেন্ট একটা বাচ্চা হাম হবেই না, এটা কিন্তু বলা যায় না। স্মল পক্স ইজ ফুল্লি ইরাডিকেটেড, কলেরা ইজ ইরাডিকেটেড, এখন কিন্তু কলেরা হচ্ছে। আপনার যদি রেসিস্ট্যান্স মাত্রাটা কেউ ক্রস করে যান, পচা-তিতা খাবার খেয়ে যান, তাহলে তো কলেরা হবে। ঠিক একই জিনিস কিন্তু এটাও।
তিনি আরো বলেন, যদি বেশিভাবে ভাইরাসটা ছড়িয়ে যায়, ক্ষেত্র বিশেষে হতেও পারে। এটা কতটুকু গ্যারান্টি আমি জানি না, আই অ্যাম নট এ সায়েন্টিস্ট, যার কারণে আমি জানি না। ঈদের সময় মায়েরা যেন আক্রান্ত শিশুদের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে নিয়ে না যায় সে অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাচ্চাগুলো যেন অনেক ভিড় আছে এমন জায়গায়ও নিয়ে না যায়।
তিনি বলেন, কারণ এটা হাইলি ছোঁয়াচে রোগ। এটা তো সংস্পর্শে গেলেই, শ্বাস-প্রশ্বাসে, দৈনিক মানে সংস্পর্শ লাগলে এটা ছড়ায়। কাজেই এটা থেকেও সবার চেষ্টা করতে হবে। তবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা প্রেডিক্ট করছেন যে, ফ্রি মিক্সিংয়ের ফলে এই ঈদে বাস যাত্রা, ট্রেন যাত্রা, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া, এভাবে যদি হাম রোগীর সংস্পর্শে ভালো মানুষগুলো আসে, সুস্থ বাচ্চারা, তাহলে দেয়ার ইজ এ পসিবিলিটি, একটা সম্ভাবনা থাকবে আরেকটু বেড়ে যাওয়ার।
সানা/আপ্র/২৩/৫/২০২৬