ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীসহ সারা দেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঈদ উপলক্ষে ডিউটিতে নিয়োজিত করা হচ্ছে অতিরিক্ত সাত হাজার পুলিশ সদস্য। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরে দুই হাজারের বেশি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে।
ঈদ উদযাপনকে কেন্দ্র করে আগামী ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে। এর আগে ২৫ মে থেকে সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঘরমুখো মানুষের ঢল শুরু হয়েছে এবং রাজধানীতে পশুবাহী যানবাহনের চলাচলও বেড়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় থাকা দুই হাজারের বেশি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত সাত হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে শুধু পশুর হাটেই মোতায়েন থাকবেন দুই হাজার ৪৮৯ জন সদস্য। ডিএমপির প্রায় ৩২ হাজার সদস্যের মধ্যে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ছুটিতে যেতে পারবেন।
ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং নৌপুলিশ। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট, মহাসড়ক, টোলপ্লাজা ও প্রবেশপথে চেকপোস্ট, টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ডগ স্কোয়াড ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল। রাজধানীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার এবং পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজায় মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সদস্যদের।
ডিএমপির মুখপাত্র জানান, পশুর হাটে অর্থ লেনদেন নিরাপত্তায় বিশেষ স্কট টিম থাকবে। বড় অঙ্কের অর্থ পরিবহনে পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া যাবে। ছিনতাই, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির বিরুদ্ধে সাদা পোশাকে পুলিশ কাজ করবে এবং সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা মনিটরিং চলবে।
ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো জরুরি সহায়তার জন্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরেও যোগাযোগ করা যাবে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন জানিয়েছে, টিকিট কালোবাজারি, চাঁদাবাজি ও অপরাধ দমনে মোবাইল কোর্ট এবং টহল কার্যক্রম চালু থাকবে। নৌ, সড়ক ও মহাসড়কে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ জানিয়েছে, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ টোলপ্লাজাগুলোতে বিশেষ দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।
এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর ঈদযাত্রীদের জন্য নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ না করা, ট্রাফিক আইন মেনে চলা, সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে সতর্ক থাকা এবং বড় অঙ্কের লেনদেনে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের সময় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ডিবি ও থানা পুলিশ সক্রিয় থাকবে এবং নগরজুড়ে বিশেষ অভিযান চলবে।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৩/৫/২০২৬