প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে ওয়াশিংটনের নতুন করে সম্পর্ক জোরদার এবং সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত মিলছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভারত সফরে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার (২৩ মে) কলকাতায় পৌঁছে রোমান ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী রুবিও মাদার তেরেসা প্রতিষ্ঠিত দাতব্য সংস্থা ও ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন। পরে তার নয়া দিল্লিতে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এর আগে তিনি নয়া দিল্লিতে মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সফরে বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা হবে আলোচনার প্রধান বিষয়। এছাড়া রুবিওর আগ্রা ও জয়পুর সফরেরও কর্মসূচি রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে কাছে টানার চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত উচ্চ শুল্ক দুই দেশের সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি করে এবং সেই প্রচেষ্টায় ধাক্কা লাগে।
পরবর্তীতে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির মাধ্যমে এসব শুল্কের অনেকাংশ প্রত্যাহার করা হলেও দুই দেশ এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।
ভারত সরকার যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত ‘কোয়াড’ জোটের শীর্ষ সম্মেলনের সঙ্গে যুক্ত করে ট্রাম্পকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে বাণিজ্যিক বিরোধ, আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা এবং ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি আর অগ্রসর হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধিও নয়া দিল্লির উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইরান-সংক্রান্ত কূটনৈতিক তৎপরতায় ইসলামাবাদ বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে। এতে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রার অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট রাশিয়ার তেলের ওপর ভারতের নির্ভরশীলতা কমানোর মার্কিন প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে। রুবিও জানিয়েছেন, ভারতের জ্বালানি বাজারে নিজেদের অংশ বাড়ানোর বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক দক্ষিণ এশিয়া নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং বর্তমানে ওয়াশিংটনভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এশিয়া গ্রুপের কর্মকর্তা বাসান্ত সাংঘেরা বলেন, চলতি মাসে ট্রাম্পের বেইজিং সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভারতের উদ্বেগ আরো বেড়েছে। তার ভাষায়, সফরকালে ট্রাম্পের অবস্থান ভারতে “উদ্বেগের এক চরম ঝড়” সৃষ্টি করেছিল। সূত্র: রয়টার্স
সানা/আপ্র/২৩/৫/২০২৬