যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তুলসী গ্যাবার্ড। স্বামীর শরীরে ক্যান্সার শনাক্ত হওয়াকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২২ মে) রাতে নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত পদত্যাগপত্রে ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে গ্যাবার্ড লেখেন, তার ওপর আস্থা রাখায় এবং গত দেড় বছর জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞ। একই চিঠিতে তিনি জানান, তার পদত্যাগ ৩০ জুন থেকে কার্যকর হবে।
পরে ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে গ্যাবার্ডের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, “চমৎকারভাবে দায়িত্ব পালন করে আসা তুলসী গ্যাবার্ড আগামী ৩০ জুন প্রশাসন ছেড়ে যাচ্ছেন। তিনি অসাধারণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আমরা তাকে মিস করব।”
ট্রাম্প আরও জানান, ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের প্রিন্সিপাল ডেপুটি ডিরেক্টর অ্যারন লুকাস ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে গ্যাবার্ডের মতামত গুরুত্ব পায়নি। অন্যদিকে ইরান ইস্যুতে শুরুতে নীরব থাকলেও পরে ইরানে ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন তিনি।
১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামোয়ায় জন্ম নেওয়া ৪৪ বছর বয়সী তুলসী গ্যাবার্ড যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হিন্দু কংগ্রেস সদস্য। ১৯৮৩ সালে তার পরিবার হাওয়াইয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। তার মা হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, আর বাবা ছিলেন রোমান ক্যাথলিক খ্রিষ্টান। হিন্দুধর্মের প্রতি অনুরাগ থেকেই তার নাম রাখা হয় তুলসী।
হাওয়াই থেকে ২০১৩ সালে প্রথমবার কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হন গ্যাবার্ড এবং ২০২১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি দুই দশকের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ইরাক ও কুয়েতে দায়িত্ব পালন করেছেন এই রাজনীতিক।
২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন–এর তীব্র সমালোচনা করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ত্যাগ করেন গ্যাবার্ড। এর আগে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের মনোনয়ন দৌড়েও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। পরে স্বতন্ত্র হিসেবে নাম নিবন্ধন করে ২০২৪ সালে রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দেন। চলতি নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রচারাভিযানেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনেরও বিরোধিতা করেছিলেন তুলসী গ্যাবার্ড। তার বাবা মাইক গ্যাবার্ডও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একসময় সেনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সানা/আপ্র/২৩/৫/২০২৬