তারেক মাহমুদ, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মেঘনা নদী তীরবর্তী চররমনী মোহন ইউনিয়নের বুড়িরঘাট এলাকায় বিদ্যালয় না থাকায় শত শত শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আশপাশে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় অনেক শিশু স্কুলে যেতে পারছে না। ফলে তারা পড়াশোনার বদলে মাছ ধরা ও নানা কাজে জড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রত্যন্ত এ অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে ১৯৯৪ সালে বেসরকারি একটি এনজিও জাপানি দাতা সংস্থার সহযোগিতায় মেঘনা নদীর পাড়ে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তীতে স্থানীয় সিরাজ চৌধুরী বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করেন। সেই বিদ্যালয়ে একসময় চররমনী মোহন ইউনিয়নের শত শত শিশু লেখাপড়ার সুযোগ পেত।
তবে প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পর বিদ্যালয়টির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১৬ সালে আবারো এটি চালু করা হলেও তিন বছরের মধ্যে, ২০১৯ সালে পুনরায় বন্ধ হয়ে পড়ে।
বর্তমানে বিদ্যালয়টির ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ইট ও টিনের কাঠামোর অধিকাংশ অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। ভবন ও মাঠের অংশে এখন ধান, সয়াবিনসহ বিভিন্ন ফসল রাখা হচ্ছে। তবু স্থানীয় শিশু ও অভিভাবকেরা নিয়মিত সেখানে গিয়ে বিদ্যালয়টি পুনরায় চালুর অপেক্ষায় থাকেন।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, নিকটবর্তী বিদ্যালয় পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে হওয়ায় শিশুদের নিয়মিত যাতায়াত সম্ভব হচ্ছে না। নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর পক্ষে সন্তানদের দূরের বিদ্যালয়ে পাঠানোও কঠিন। ফলে অনেক শিশু পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ছে।
একাধিক অভিভাবক বলেন, “স্কুল না থাকায় আমাদের সন্তানরা এখন নদীতে মাছ ধরা ও খেলাধুলায় সময় কাটাচ্ছে। সরকারের কাছে দাবি, দানকৃত জমিতে বিদ্যালয়টি আবার চালু করা হোক।”
সোপিরেট এনজিও’র প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নুরুল আলম জানান, কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারের আওতায় জাপানি দাতা সংস্থার অর্থায়নে কয়েকটি বিদ্যালয় পরিচালিত হতো। অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যালয়টির কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা জানান, বিদ্যালয়টির বিষয়ে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিদ্যালয়টি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
সানা/আপ্র/২৩/৫/২০২৬