বাংলাদেশের পরাজয়ের পর মিরপুরের উইকেট ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ম্যাচ শেষে দুই দলের প্রতিনিধিরা উইকেট নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন দিলেও সরাসরি বড় কোনো সমস্যা দেখেননি কেউই।
শুরুর দিকে কিছু বল নিচু হয়ে আসায় উইকেট নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের সিরিজে প্রাণবন্ত উইকেট প্রশংসিত হলেও, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। কোচ ফিল সিমন্স ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ একই ধরনের উইকেট চাইলেও সেটির প্রতিফলন পুরোপুরি মেলেনি।
এই উইকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের মতো অতটা মন্থর না হলেও বাউন্স ছিল কিছুটা অসমান, বল কখনও থেমে এসেছে এবং টার্নও ছিল উল্লেখযোগ্য। ফলে ব্যাটিং করা সহজ ছিল না।
তবে পরাজয়ের জন্য উইকেটকে দায়ী করতে রাজি নন দলের প্রতিনিধি সাইফ হাসান। ওপেনিংয়ে নেমে ফিফটি করা এই ব্যাটসম্যান বলেন, উইকেট কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও সেটিকে অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার মতে, থিতু ব্যাটসম্যানদের জন্য উইকেট তুলনামূলক সহজ ছিল, কিন্তু নতুন ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
সাইফ আরও বলেন, পাকিস্তান সিরিজের মতো ‘ট্রু’ উইকেট না হলেও এটি একেবারে খারাপ ছিল না। তবে কিছুটা অসমান বাউন্স ছিল এবং দল হিসেবে তারা আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারতেন। ম্যাচে ভালো অবস্থানে থেকেও ভুল সময়ে উইকেট হারানোয় পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ।
লক্ষ্য ছিল ২৪৮ রান। শেষ ১০ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৬৭ রান, হাতে ছিল ৬ উইকেট—এমন অবস্থান থেকেও জয় হাতছাড়া করে দল। মাঝের ওভারগুলোতে রান তোলার গতি থেমে যাওয়াই পরাজয়ের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে নিউ জিল্যান্ডের অলরাউন্ডার ডিন ফক্সক্রফট উইকেট নিয়ে কোনো অভিযোগ করেননি। ৫৮ বলে ৫৯ রান করা এই খেলোয়াড় মনে করেন, দ্রুত উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। অনুশীলনের উইকেটও ম্যাচের মতো হওয়ায় প্রস্তুতিতে সুবিধা পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে উইকেট নিয়ে আলোচনা থাকলেও, ম্যাচের ফল নির্ধারণে মূল ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতাই।
সানা/আপ্র/১৮/৪/২০২৬